সাত কোটি টাকার মূলধনের কোম্পানিতে ৫৮ কোটি টাকার অনিয়ম
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্পমূলধনী কোম্পানি কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশ। যে কোম্পানির শেয়ার নিয়ে শেয়ারবাজারে একটি কারসাজি চক্র খেলাধূলা করছে। অথচ কোম্পানিটির আর্থিক হিসাবে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে এসেছে নিরীক্ষায়। এক্ষেত্রে ৭ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটিতে ৫৮ কোটি টাকা অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে নিরীক্ষক। যে কারনে কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবের জন্য পর্ষদের সুপারিশকৃত বোনাস শেয়ার বাতিল করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
কে ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্পমূলধনী কোম্পানি কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশ। যে কোম্পানির শেয়ার নিয়ে শেয়ারবাজারে একটি কারসাজি চক্র খেলাধূলা করছে। অথচ কোম্পানিটির আর্থিক হিসাবে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে এসেছে নিরীক্ষায়। এক্ষেত্রে ৭ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটিতে ৫৮ কোটি টাকা অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে নিরীক্ষক। যে কারনে কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবের জন্য পর্ষদের সুপারিশকৃত বোনাস শেয়ার বাতিল করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
কে অ্যান্ড কিউ কর্তৃপক্ষের তৈরী করা আর্থিক হিসাবে স্থায়ী সম্পদ, ভ্যাট ও পাওনাদার হিসাবে গরমিল এবং শ্রম আইন, ডিএসইর রেগুলেশনস ও বিএসইসির নির্দেশনা ভঙ্গের সত্যতা পেয়েছে নিরীক্ষক। এক্ষেত্রে কোম্পানিটিতে ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা অসঙ্গতি পেয়েছে নিরীক্ষক।
কে অ্যান্ড কিউ কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে ৫৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদ উল্লেখ করেছে। কিন্তু স্থায়ী সম্পদের সঠিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের অভাবে ওই সম্পদের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি নিরীক্ষক। এছাড়া ওই সিস্টেম না থাকার মাধ্যমে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস)-১৬ লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে ৪৭ লাখ টাকার ভ্যাট জমা দিয়েছে দাবি করলেও তার স্বপক্ষে নিরীক্ষককে প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি।
এই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ব্যয়ের জন্য পাওনাদার ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা পাবে বলে আর্থিক হিসাবে উল্লেখ করেছে। কিন্তু নিরীক্ষককে ওই হিসাবেরও প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। যাতে এ হিসাবও সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কোম্পানিটিতে ওয়ার্কার্স প্রফিট অ্যান্ড পার্টিসিপেশন ফান্ডে (ডব্লিউপিপিএফ) ৭৬ লাখ টাকা রয়েছে। এরমধ্যে পূর্বের বছরের ৪০ লাখ টাকা রয়েছে। যা শ্রম আইন অনুযায়ি বিতরন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা করেনি।
আরও পড়ুন...
কে অ্যান্ড কিউয়ের বোনাস শেয়ার বাতিল
শাস্তি পেতে যাচ্ছে কে অ্যান্ড কিউ
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটিতে ৩২ লাখ টাকার অবন্টিত লভ্যাংশ রয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাবে জমা আছে মাত্র ১১৩৮ টাকা, যা ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশনের ব্যত্যয়। অর্থাৎ লভ্যাংশের টাকা অন্যকোন ব্যবহার বা অপব্যবহার হয়েছে। যে কারনে কোম্পানিটিতে শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় পুরোটাই ঘাটতি রয়েছে। এ কারনেই অনেক কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেও বিতরন করতে পারে না।
এদিকে কে অ্যান্ড কিউ কোম্পানিতে থাকা ৩২ লাখ টাকার অবন্টিত লভ্যাংশের মধ্যে ২৫ লাখ টাকাই রয়েছে ৩ বছরের বেশি সময় আগের। যা বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) স্থানান্তর করেনি
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কে অ্যান্ড কিউ এর পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে ৬৪.৭৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের হাতে। কোম্পানিটির শনিবার (০৩ জানুয়ারি) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৩৭৭.৭০ টাকায়।
