ইব্রাহিম হোসাইন (রেজোয়ান) : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত লিজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে হাতেগোনা যে ২-৪টি কোম্পানি ব্যবসা করে আসছিল, তারমধ্যে ছিল লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের নাম। তবে এ কোম্পানিটিতেও ঋণ নিয়ে হয়েছে অনিয়ম। যাতে ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। এছাড়া বড় ধরনের সঞ্চিতি ঘাটতিতে পড়েছে কোম্পানিটি। যা গঠন না করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি (৭.৪১) টাকার লোকসানকে ০.৫১ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে।

দেখা গেছে, ঋণ নিয়ে অনিয়মের কারনে কোম্পানিটির ২০২৪ সালে ৩৯৯ কোটি ...

ইব্রাহিম হোসাইন (রেজোয়ান) : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত লিজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে হাতেগোনা যে ২-৪টি কোম্পানি ব্যবসা করে আসছিল, তারমধ্যে ছিল লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের নাম। তবে এ কোম্পানিটিতেও ঋণ নিয়ে হয়েছে অনিয়ম। যাতে ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। এছাড়া বড় ধরনের সঞ্চিতি ঘাটতিতে পড়েছে কোম্পানিটি। যা গঠন না করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি (৭.৪১) টাকার লোকসানকে ০.৫১ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে।

দেখা গেছে, ঋণ নিয়ে অনিয়মের কারনে কোম্পানিটির ২০২৪ সালে ৩৯৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি (৭.৪১) টাকা লোকসান হয়েছে। তবে এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ওই বছরের ব্যবসায় ২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ০.৫১ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে।

কোম্পানিটির ২০২৪ সালের আর্থিক হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে গ্রাহকদের স্বল্পমেয়াদি আমানতকে ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দিয়ে থাকে। এটা খুবই বাজে সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এর উপরে আবার রাজনৈতিক প্রভাবে অস্তিত্বহীন ও অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরচেয়েও ভয়াবহ অবস্থা লিজিং কোম্পানিগুলোর। অধিকাংশ লিজিং কোম্পানি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার হুমকিতে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের আমানত দিতে পারছে না। যাতে আমানতকারীরা এখন অসহায়ের মতো ঘুরছে।

জানা গেছে, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ২০২৪ সালে শেয়ারপ্রতি ০.৫১ টাকা করে নিট মুনাফা দেখানো হয়েছে ২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আর নিট সম্পদ ৯৮৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি নিট ১৮.৩২ টাকা সম্পদ দেখানো হয়েছে।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ কোম্পানিটির ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ ৪২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা গঠন না করে অতিরঞ্জিত সম্পদ, মুনাফা ও ইক্যুইটি দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে দায় কম দেখানো হয়েছে।

তবে কোম্পানিটির অপর্যাপ্ত মুনাফার কারনে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই সঞ্চিতি পরবর্তীতে গঠন করার সুযোগ দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সুযোগ আন্তর্জাতিক হিসাব মানের সঙ্গে সামঞ্জসূপূর্ণ না। কারন কোম্পানিকে এখন সঞ্চিতি গঠন থেকে বিরত থাকার সুযোগ দিলেও ভবিষ্যতে ঠিকই এই বিশাল পরিমাণের সঞ্চিতি করতে হবে। সেটার প্রভাব এখন না দেখিয়ে ভবিষ্যতে দেখানো হবে। এটা এক ধরনের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা।

হিসাব মান অনুযায়ি, কোম্পানিটির ২০২৪ সালে আরও ৪২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা সঞ্চিতি গঠন করা দরকার ছিল। যা করা হলে কোম্পানিটির ওই বছরে ৩৯৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি (৭.৪১) টাকা লোকসান হতো।

এদিকে ওই প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি ২০২৪ সালে গঠন করা হলে কোম্পানিটির নিট সম্পদ ৯৮৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা থেকে কমে ৫৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় বা শেয়ারপ্রতি সম্পদ ১৮.৩২ টাকা থেকে কমে ১০.৪০ টাকায় নেমে আসতো।

সঞ্চিতি ঘাটতির মাধ্যমে কৃত্রিম মুনাফা দেখানোর জন্য ২০২৪ সালের ব্যবসায় শ্রম আইন অনুয়ায়ি ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) গঠন করেনি বলে আর্থিক হিসাবে তুলে ধরেছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ।

নিরীক্ষক জানিয়েছে, কোম্পানিটির প্রদত্ত মোট ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ১৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এরমধ্যে ৮৪৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ১৪.৭৪% খেলাপি।

এসব বিষয়ে জানতে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) শামীম আল মামুন ও কোম্পানি সচিব মাসুম আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মাসুম আলীর ব্যক্তিগত ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি এবং হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। আর সিএফও শামীম আল মামুনের সঙ্গে গত ৭, ৮ ও ১২ জানুয়ারি কথা হয়। প্রতিবারই তিনি তাদের বক্তব্য জানাবেন বলে জানান। তবে রিপোর্ট প্রকাশকালীন পর্যন্ত তিনি জানাননি। এরমধ্যে ১৩ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলে রিসিভ না করে পরে কল ব্যাক করবেন বলে ম্যাসেজ দেন। তবে কল আর দেননি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৫৩৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৮.২৪ শতাংশ। কোম্পানিটির বুধবার (১৪ জানুয়ারি) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২.৪০ টাকায়।