ইব্রাহিম হোসাইন (রেজোয়ান) : শেয়ারবাজারে দূর্বল কোম্পানি খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। এরমধ্যে আবার কোম্পানি কর্তৃপক্ষ নিজেদের মতো করে ভূয়া তথ্য দিয়ে আর্থিক হিসাব তৈরী করে। যে কোম্পানিটি গত কয়েক বছর ধরে লোকসানে নিমজ্জিত ছিল। তবে কৃত্রিম আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার কারসাজির এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ দুই অর্থবছর ধরে নামমাত্র মুনাফা দেখিয়ে আসছে। এরমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি ২৭ পয়সা মুনাফা দেখিয়েছে। আর শুধুমাত্র সাধারন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ...

ইব্রাহিম হোসাইন (রেজোয়ান) : শেয়ারবাজারে দূর্বল কোম্পানি খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। এরমধ্যে আবার কোম্পানি কর্তৃপক্ষ নিজেদের মতো করে ভূয়া তথ্য দিয়ে আর্থিক হিসাব তৈরী করে। যে কোম্পানিটি গত কয়েক বছর ধরে লোকসানে নিমজ্জিত ছিল। তবে কৃত্রিম আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার কারসাজির এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ দুই অর্থবছর ধরে নামমাত্র মুনাফা দেখিয়ে আসছে। এরমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি ২৭ পয়সা মুনাফা দেখিয়েছে। আর শুধুমাত্র সাধারন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ারপ্রতি ১ টাকা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তারপরেও কোম্পানিটির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। অথচ কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ।

কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে ৫৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকার কাঁচামাল ও ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিক্রিযোগ্য মজুদ পণ্য দেখিয়েছে। এই মোট ৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মজুদ পণ্য ২০২১ সাল থেকে দেখিয়ে আসছে। কিন্তু সরেজমিনে সত্যতা যাচাই অনেক ঘাটতি পেয়েছেন নিরীক্ষক। ২০২২-২৩ অর্থবছরের নিরীক্ষাতেই ওই মজুদ পণ্যের হিসাবে ৪০ কোটি ৭০ লাখ টাকার ঘাটতি পেয়েছিল নিরীক্ষক। অর্থাৎ কোম্পানির সম্পদ হিসাবে দেখানো ৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মধ্যে ৪০ কোটি ৭০ লাখ টাকা ভূয়া।

মজুদ পণ্য নিয়ে নিরীক্ষক আরও জানিয়েছেন, একই জায়গায় খান ব্রাদার্স গ্রুপের সমজাতীয় অন্য কোম্পানি সাব-কন্ট্রান্টে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরফলে কোন মজুদ পণ্য খান ব্রাদার্সের আর কোনগুলো সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া কোম্পানির, তা বোঝা যায়নি।

এই ভূয়া মজুদ পণ্যের মাধ্যমে লোকসানকে আড়াল করে কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে খান ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে মজুদ পণ্য, নিট সম্পদ এবং সংরক্ষিত আয় (রিটেইন আর্নিংস) বেশি দেখিয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিচালক ও মূখপাত্র মো: আবুল কালাম অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, অর্থবছর শেষে নিরীক্ষকের মতামতসহ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন কমিশনে আসে। যা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাচাই-বাছাই করে। এতে কোন অনিয়ম বা অসঙ্গতি পেলে, কমিশন আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। খান ব্রাদার্সেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

আরও পড়ুন....

শেয়ারপ্রতি ৭.৪১ টাকার লোকসানকে ০.৫১ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স

ধংসের পথে থাকা এই কোম্পানিটি থেকে ৩ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়েছে দেউলিয়া লিজিং কোম্পানি পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে। যা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক হিসাবে সম্পদ দেখিয়ে আসা হচ্ছে। কিন্তু এই লিজিং কোম্পানিটির আর্থিক কেলেঙ্গারীর বিষয়ে দেশের ও বিদেশের মানুষ জানে। যার পক্ষে ডিপোজিটরদের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব না। তারপরেও খান ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ তাদের ফিক্সড ডিপোজিটের বিপরীতে প্রভিশনিং গঠন করেনি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া খান ব্রাদার্সের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদদের মালিকানা ৬২.৫৩ শতাংশ। কোম্পানিটির বুধবার (১৪ জানুয়ারি) লেনদেন শেষে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৪৪.০০ টাকায়।

যে শেয়ারটির দর ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ছিল ১৯.৯০ টাকায়। যেখান থেকে ৩ মাসের ব্যবধানে ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ৮৭.৫০ টাকায় উঠে। যা আরও বেড়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ১৪৪.৯০ টাকায় উঠে। যার পেছনে ছিল কারসাজি। যা শেষে শেয়ারটি এখন ৪১.৫০ টাকা।

এসব বিষয়ে জানতে খান ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান ও সচিব তপন কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা মন্তব্য করেননি।