অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে ভূয়া মজুদ পণ্য দেখানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। যে কোম্পানিটির কারখানায় অন্য ২টি কোম্পানির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে নিরীক্ষক। যেগুলো পুরোদমে চলছে। কিন্তু খান ব্রাদার্স চলতি মূলধনের ঘাটতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার হুমকিতে পড়েছে।

আগের অর্থবছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় নিরীক্ষক জানান, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে ৪৬১.৫০ শতক জমির বিপরীতে ১৪ কোটি ৯ ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে ভূয়া মজুদ পণ্য দেখানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। যে কোম্পানিটির কারখানায় অন্য ২টি কোম্পানির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে নিরীক্ষক। যেগুলো পুরোদমে চলছে। কিন্তু খান ব্রাদার্স চলতি মূলধনের ঘাটতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার হুমকিতে পড়েছে।

আগের অর্থবছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় নিরীক্ষক জানান, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে ৪৬১.৫০ শতক জমির বিপরীতে ১৪ কোটি ৯ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়েছে ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ হিসেবে। এছাড়া ‘ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো’ হিসেবে ১৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়েছে। কিন্তু এসব সম্পদের সত্যতা যাচাইয়ে কোন ধরনের প্রমাণাদি দিতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

তবে সরেজমিনে গিয়ে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের ওই জমিতে ‘খান ব্রাদার্স ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ ও খান ব্রাদার্স মার্বেল অ্যান্ড গ্রানাইট’ কোম্পানির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে নিরীক্ষক। যে কোম্পানি দুটি পুরোদমে উৎপাদনে রয়েছে। যেগুলোর জন্যও ভিতরে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য একই রাস্তা রয়েছে। এছাড়া কোম্পানি কর্তৃপক্ষও প্রকৃত মালিকানা বিষয়ে প্রমাণাদি, খাজনা কপি, অনুমোদিত লে আউট প্লান দিতে পারেনি। যে বিষয়ে আর্থিক হিসাবে ভয়াবহ মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে নিরীক্ষক তার মতামত দেন।

এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মোট স্থায়ী সম্পদ দেখিয়েছে ৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। কিন্তু কোম্পানিতে স্থায়ী সম্পদ রেজিস্টার বা সনাক্তকরন মার্কস নেই। এছাড়া ওই অর্থবছরে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ক্যাপিটালাইজড করা হলেও এর বিপরীতে নিরীক্ষককে প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি খান ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন...

আর্থিক হিসাবে ৬০ কোটি টাকার মজুদ পণ্য : সরেজমিনে সত্যতা পায়নি নিরীক্ষক

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, খান ব্রাদার্স চলতি মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। যা কোম্পানিটিকে সাবকন্ট্রাক্টের উপর নির্ভরশীলতায় নিয়ে গেছে। যা কোম্পানিটির ভবিষ্যতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। এই অবস্থায় কোম্পানিটিকে টিকিয়ে রাখতে সঠিক ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা করার সুপারিশ করেছে নিরীক্ষক।

খান ব্রাদার্সের আর্থিক হিসাবে সাবকন্ট্রাক্ট থেকে ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। এর পুরোটাই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাহিরে গিয়ে নগদে লেনদেন করেছে।

এছাড়া আয়ের উপর কোন ভ্যাট ও এআইটি দেয়নি খান ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ। আয়ের উপর ১৫% হিসেবে কোম্পানিটির ভ্যাট আসে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। যা প্রদান না করার মাধ্যমে ভ্যাট আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। এছাড়া ৭.৫০ হারে উইথহোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করেনি।

এই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে ২০২৫ সালের ৩০ জুন রপ্তানি বিল হিসাবে ৬ কোটি ২২ লাখ টাকার পাওনা দেখিয়েছে। যা ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে দেখিয়ে আসছে। যা একইভাবে দেখিয়ে আসছে কোন সঞ্চিতি গঠন না করে। অথচ ওই অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা নিয়ে নিরীক্ষককে কোন প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ধারা ১৮১ অনুযায়ি কোম্পানির অবশ্যই সঠিক অ্যাকাউন্টস বই রাখা দরকার। যা কোম্পানির সর্ম্পক্যে সঠিক ও সত্য তুলে ধরবে। কিন্তু খান ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ সঠিক অ্যাকাউন্টস বই রক্ষণাবেক্ষন করে না। যাতে কোম্পানির লেনদেনের বিষয়ে প্রমাণাদি নেই এবং পরিস্কার হতে পারেননি নিরীক্ষক।

এসব বিষয়ে জানতে খান ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান ও সচিব তপন কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া খান ব্রাদার্সের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদদের মালিকানা ৬২.৫৩ শতাংশ। কোম্পানিটির রবিবার (১৮ জানুয়ারি) লেনদেন শেষে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৪৪.৪০ টাকায়।