বিনিয়োগকারীদের দুরবস্থা : খেলাধূলা-সাংস্কৃতিক নিয়ে বিএসইসির মহাযজ্ঞ আয়োজন
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : আওয়ামী সরকারের পতনের পরে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। তারপরেও আস্থা ফিরেনি বিনিয়োগকারীদের মাঝে। বরং আরও অনাস্থা তৈরী হয়েছে। এতে করে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন গঠনের পরে শেয়ারবাজার হারিয়েছে ৮৬৯ পয়েন্ট। এসময় বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছে লাখো কোটি টাকার পুঁজি। যে কমিশন বিনিয়োগকারীদেরকে চোখের পানি ছাড়া কিছুই দিতে না পারলেও বিএসইসির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নিয়ে বিনোদনের জন্য বিশাল এক মহাযজ্ঞের আয়োজন ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : আওয়ামী সরকারের পতনের পরে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। তারপরেও আস্থা ফিরেনি বিনিয়োগকারীদের মাঝে। বরং আরও অনাস্থা তৈরী হয়েছে। এতে করে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন গঠনের পরে শেয়ারবাজার হারিয়েছে ৮৬৯ পয়েন্ট। এসময় বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছে লাখো কোটি টাকার পুঁজি। যে কমিশন বিনিয়োগকারীদেরকে চোখের পানি ছাড়া কিছুই দিতে না পারলেও বিএসইসির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নিয়ে বিনোদনের জন্য বিশাল এক মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছে।
আগামি ২৪ জানুয়ারি পূর্বাচলে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মাকসুদ কমিশন। এতে সারাদিনব্যাপি খাওয়া-দাওয়া, খেলাধূলা, গানবাজনা হবে। এদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে বিএসইসির এই মহাযজ্ঞ। এতে বিএসইসি ব্যয় করবে প্রায় অর্ধ কোটি টাক
বিনিয়োগকারীদের দূরবস্থার মধ্যে বিএসইসির এই মহাযজ্ঞকে ভালোভাবে দেখছেন না বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, বিএসইসির কর্মকর্তাদেরও বিনোদনের দরকার আছে, তবে তাদের অতল ব্যর্থতার সময়ে সেটা যায় না। তারা নিজেদের মতো করে ব্যক্তিগতভাবে বিনোদন করতে পারে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের দুঃসময়ে এবং তাদেরই টাকায় এটা করতে পারে না। কারন বিএসইসি আয় করে বিনিয়োগকারীদের থেকেই। সেই আয় দিয়ে তাদের শোচণীয় সময়ে বিএসইসি বিনোদনে গেলে, সেটা বিনিয়োগকারীদের খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক।
অথচ বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অযোগ্যতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হাহাকার। তার কমিশনের অযোগ্যতা ও শেয়ারবাজার নিয়ে জ্ঞান শুন্যতাকে দায়ী করে আসছেন বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে শেয়ারবাজারের সব শ্রেণীর মানুষ। এমনকি বিএসইসির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। অন্যদিকে তার অপসারনের দাবিতে নিয়মিত রাজপথে বিক্ষোভ করে আসছে বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীদের এখন মূল দাবিই মাকসুদের পদত্যাগ। যার পদত্যাগেই শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস বিনিয়োগকারীদের।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে ১০ আগস্ট বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম পদত্যাগ করেন। এর ২দিন পরে ১২ আগস্ট পদত্যাগ করেন কমিশনার অধ্যাপক ড.শামসুদ্দিন আহমেদ ও ড. রুমানা ইসলাম। এরপরে গত ১৮ আগস্ট খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে চেয়ারম্যান এবং ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবরকে ও ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ বিএসইসির কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে ভালো হবে প্রত্যাশা করা হলেও তা হয়নি। উল্টা খন্দকার কমিশনের নিয়োগের দিন থেকে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত ডিএসইর ডিএসইএক্স কমেছে ৮৬৯ পয়েন্ট।
অথচ আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পরে ও মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন পূণ:গঠনের আগে শেয়ারবাজারে অনেক ভালো হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ওইসময় ৫ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মূল্যসূচক বেড়েছিল ৬৭৫ পয়েন্ট। যা পরবর্তীতে বিএসইসিতে যোগ্য লোকের অভাবে সম্ভব হয়ে উঠেনি।
এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, আমরা (ব্রোকার) শেষ হয়ে গেছি। টানা লোকসানে অস্তিত্ব না থাকার মতো অবস্থা। এরইমধ্যে অনেক ব্রোকার হাউজে কর্মী ছাটাই করতে হয়েছে। তবে সব কর্মী ছাটাই করেও টিকে থাকা যাবে না, যদি বিদ্যমান মন্দা চলতে থাকে।
খন্দকার মাকসুদকে বিএসইসিতে নিয়োগের দিন (১৮ আগস্ট) লেনদেনের শুরুতে ডিএসইএক্স সূচকটি ছিল ৫৯০৪ পয়েন্ট। যে সূচকটি রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ৮৬৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫০৩৫ পয়েন্টে। অর্থাৎ মাকসুদ কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরে সূচকটি কমেছে ৮৬৯ পয়েন্ট বা ১৫ শতাংশ।
এদিকে রাশেদ মাকসুদ বিএসইসিতে নিয়োগের দিন বাজার মূলধন বা সব সিকিউরিটিজের দাম ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। যা ১৮ জানুয়ারি নেমে এসেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকায়। এই সরল হিসাবে বিনিয়োগকারীদের সিকিউরিটিজের দাম কমেছে ১৮ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছে আরও অনেক বেশি। কারন মাকসুদ কমিশনের সময়ে অনেকগুলো ট্রেজারি বন্ড লেনদেনে আসার মাধ্যমে বাজার মূলধন যোগ হয়েছে।
