অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট প্রকট। এই সংকট দূর করতে হলে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বা ডি-রেগুলেশন এবং উদারীকরণের পথে হাঁটতে হবে। বাজারের ওপর এই বিশ্বাসই দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘পোস্ট ইলেকশন ২০২৬ হোরাইজন; ইকোনোমি, পলিটিক্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীষর্ক সেমিনারে তিনি এ ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট প্রকট। এই সংকট দূর করতে হলে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বা ডি-রেগুলেশন এবং উদারীকরণের পথে হাঁটতে হবে। বাজারের ওপর এই বিশ্বাসই দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘পোস্ট ইলেকশন ২০২৬ হোরাইজন; ইকোনোমি, পলিটিক্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীষর্ক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, কোম্পানিগুলোর আর্থিক হিসাব–নিকাশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যেসব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও হিসাবরক্ষক আর্থিক বিবরণী তৈরি করেন, তাদের কাজের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীরা যেন সঠিক ও বাস্তব আর্থিক চিত্র দেখতে পান—তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া ‘গারবেজ অ্যাকাউন্ট’ বা সাজানো হিসাব পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবছর হিসাব সাজিয়ে সমস্যা ঢাকার কোনো মানে নেই। এতে সংকট আরও গভীর হয় এবং ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বাড়ে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের বিনিয়োগই পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। সব বিনিয়োগকে রপ্তানিমুখী হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মূল বিষয় হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও পণ্যের ওপর বিশ্বাস। সেই আস্থা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হলে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ব্যালান্স শিট পরিষ্কার করা। পরিস্থিতি খারাপ হলে তা গোপন না করে বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ প্রভিশন, প্রয়োজনে ঋণ অবলোপন (রাইট-অফ) এবং সর্বাগ্রে একটি পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যালান্স শিট।

তিনি আরও বলেন, বাজারের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং বাজারকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। তা করা গেলে অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।

আমির খসরু বলেন, ভোটের পূর্ব প্রস্ততি চলছে। আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। গত ১৬, ১৭ বা ১৮ বছর পর নাগরিকরা তাদের ভোট দিয়ে এমন একটি সরকার গঠন করার সুযোগ পাবেন, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।’

বিশ্বজুড়ে অনেক ‘ফান্ড ম্যানেজার’, যাদের মধ্যে অনেকে প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর জন্য আমাদের কঠোর সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত, তাই আমাদের ডি-রেগুলেশন এবং উদারীকরণের পথে হাঁটতে হবে।’

তিনি বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের( জিডিপি) তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন অনুপাত মাত্র ১০ শতাংশের নিচে। অন্যদিতে যুক্তরাষ্ট্রে তা জিডিপির দ্বিগুণ, ভারতে প্রায় ৬০ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৪০ শতাংশ।