অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক পারফরমেন্স দেখিয়ে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন শেয়ারবাজারে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিটি শেয়ার ৩৫ টাকা ও সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিটি ৩১ টাকা করে ইস্যু করে। তবে শেয়ারবাজারে আসার পরে কোম্পানিটির আইপিও পূর্ব ৪৭ কোটি টাকা মুনাফা এখন ১০৫ কোটির লোকসানে নেমে এসেছে। অথচ ব্যবসা সম্প্রসারণে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করেছে।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ারের সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৫.৫০ টাকা হিসাবে ১০৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার নিট লোকসান হয়েছে। ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক পারফরমেন্স দেখিয়ে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন শেয়ারবাজারে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিটি শেয়ার ৩৫ টাকা ও সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিটি ৩১ টাকা করে ইস্যু করে। তবে শেয়ারবাজারে আসার পরে কোম্পানিটির আইপিও পূর্ব ৪৭ কোটি টাকা মুনাফা এখন ১০৫ কোটির লোকসানে নেমে এসেছে। অথচ ব্যবসা সম্প্রসারণে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করেছে।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ারের সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৫.৫০ টাকা হিসাবে ১০৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার নিট লোকসান হয়েছে। অথচ শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিট ৪৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা মুনাফা দেখিয়েছিল। অর্থাৎ শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের পরে ব্যবসায় পতন ৩২৩ শতাংশ।

এ কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রথম বছরেই ব্যবসায় বড় পতন হয়। ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি লেনদেন শুরু হওয়া কোম্পানিটির আইপিও পূর্ব বা প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা ৩.৮৩ টাকার শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২০২০-২১ অর্থবছরে নেমে আসে ২.০৩ টাকায়। যে ইপিএস ২০২১-২২ অর্থবছরে মাত্র ০.৩৮ টাকায় নেমে এসেছিল। এরপরে ২০২২-২৩ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ২.৩৬ টাকা দিয়ে লোকসানে যাত্রা শুরু। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও বেড়ে শেয়ারপ্রতি ৫.১৮ টাকা লোকসান হয়েছে। আর সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরেক ধাপ বেড়ে এ লোকসান হয়েছে শেয়ারপ্রতি ৫.৫০ টাকা।

ব্যবসায় এই পতনের কারন হিসেবে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার কর্তৃপক্ষ অনেক সুদজনিত ব্যয়কে উল্লেখ করেছেন।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে প্রতিটি শেয়ার ৩৫ টাকা করে যোগ্য বিনিয়োগকারী ও ৩১ টাকা করে সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যুর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এই বিনিয়োগের বিপরীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ব্যবসায় শুধুমাত্র সাধারন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২% বা শেয়ারপ্রতি ২০ পয়সা লভ্যাংশ পেয়েছে। অথচ যেকোন ব্যাংকে এফডিআর করলে ৩৫ টাকায় ৩.৫০ টাকা পাওয়া সম্ভব।

এর আগের অর্থবছরের ব্যবসায় কোন লভ্যাংশ পায়নি শেয়ারহোল্ডাররা।

ইস্যু ম্যানেজার লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে বুক বিল্ডিংয়ে শেয়ারবাজারে আসে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৬.১০ টাকায়।

এনার্জিপ্যাকে লভ্যাংশের পাশাপাশি বড় ক্যাপিটাল লোকসানের মুখে বিনিয়োগকারীরা। ৩৫ টাকার শেয়ারটিতে বিনিয়োগকারীদের নাই ১৮.৯০ টাকা বা ৫৪ শতাংশ।