ভারতের শেয়ারবাজারে ২০২৫ সালে আসে ৩৭৩ কোম্পানি
অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক : পুঁজি সরবরাহের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপি পুঁজিবাজার গঠন করা হলেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে বিগত ২০ মাসে আইপিও’র মাধ্যমে শিল্পায়নে কোন অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরমধ্যে পুরো ২০২৫ সালে কোন আইপিও নেই। যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবার এবং লজ্জার রেকর্ড। এমন রেকর্ড পৃথিবীর অন্যকোন দেশে আছে কিনা, বলতে পারছে না এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২০২৫ সালে ১০৩টি বড় কোম্পানি এবং ২৭০টি ...
অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক : পুঁজি সরবরাহের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপি পুঁজিবাজার গঠন করা হলেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে বিগত ২০ মাসে আইপিও’র মাধ্যমে শিল্পায়নে কোন অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরমধ্যে পুরো ২০২৫ সালে কোন আইপিও নেই। যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবার এবং লজ্জার রেকর্ড। এমন রেকর্ড পৃথিবীর অন্যকোন দেশে আছে কিনা, বলতে পারছে না এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২০২৫ সালে ১০৩টি বড় কোম্পানি এবং ২৭০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিসহ মোট ৩৭৩টি কোম্পানিকে বম্বে ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে। খবর আনন্দবাজার।
ভারতের শেয়ারবাজারে গত কয়েক বছরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) তালিকাভুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দিয়েছে অধিকাংশ কোম্পানি। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই চিত্র পাল্টেছে। লাভ হওয়া তো দূরের কথা, আইপিও মূল্যের চেয়েও কমে লেনদেন হচ্ছে বহু কোম্পানির শেয়ার দর।
ভারতের ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত শেয়ারবাজারে পথচলা শুরু করেছে মোট ৩২টি কোম্পানি। গত বছরের প্রথম দু’মাসের তুলনায় এই সংখ্যা বেশ কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইপিও আনে অন্তত ৫০টি কোম্পানি।
গত বছর তালিকাভুক্তিতে বাম্পার রিটার্ন দিয়েছিল ২১ শেয়ার। পাশাপাশি বাজারে মেগা এন্ট্রি নেয় আরও ৮টি শেয়ার। তাদের তালিকাভুক্তিতে ভাল মুনাফা করেন বিনিয়োগকারীরা। এ বছর একই সময়সীমার মধ্যে সেটা ১৮তে নেমে এসেছে। এর জেরে আগামী দিনে আইপিওতে আবেদনের ক্ষেত্রে উৎসাহ কমতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাত্র ছ’টি স্টক তালিকাভুক্তিতে দিয়েছিল ৯০ শতাংশ রিটার্ন। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র দুইয়ে। জানুয়ারির ২ ও ১৯ তারিখে শেয়ারের দুনিয়ায় পা রাখে ই টু ই ট্রান্সপোর্টেশন এবং ভারত কোকিং কোল। আইপিও মূল্যের চেয়ে যথাক্রমে ৯০ এবং ৯৭ শতাংশ বেশিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের স্টক।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আইপিও আবেদনে লাভের অঙ্ক কমলেও ভারতীয় কোম্পানিগুলির মধ্যে শেয়ার বাজারে ঢুকে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৪ সালে তালিকাভুক্তিতে গড়ে মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪৯ শতাংশ। গত বছর সেটাই ১০.৬ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৫ সালে ১০৩টি বড় কোম্পানি এবং ২৭০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিসহ মোট ৩৭৩টি কোম্পানিকে বম্বে ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়।
উল্লেখ্য, এবছর এখন পর্যন্ত আইপিও তালিকাভুক্তিতে গড়ে মুনাফার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে মাত্র আট শতাংশ, ২০১৯ সালের পর যা সর্বনিম্ন। ওই বছর তালিকাভুক্তি গড়ে মাত্র ৫.৪ শতাংশ লাভ করতে সক্ষম হন বিনিয়োগকারীরা। এর নেপথ্যে একাধিক কারণকে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের দাবি, গত বছর থেকেই অস্থির রয়েছে শেয়ারবাজার। এর প্রভাব আইপিও উপরেও পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
