খেলাধূলা ডেস্ক : একে তো দলের পারফরম্যান্স ধারাবাহিক নয়, তার ওপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে সম্পর্ক আরও তিক্ত করে তুলেছিলেন রুবেন অ্যামোরিম। অথচ মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে তিনি দলটির কোচের দায়িত্ব হারাবেন বলে মনে করা হচ্ছিল। একইসঙ্গে অ্যামোরিমকে ছাটাই করলে বড় অঙ্কের ক্ষতির কথাও জানত ইউনাইটেড। জেনেশুনেই গত ৫ জানুয়ারি পর্তুগিজ এই কোচকে বরখাস্ত করা হয়। তার আগে দীর্ঘ সময়ের কোচ এরিক টেন হাগকে সরিয়ে দিয়েছিল ইউনাইটেড।

এরপর পূর্বানুমানই সত্যি ...

খেলাধূলা ডেস্ক : একে তো দলের পারফরম্যান্স ধারাবাহিক নয়, তার ওপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে সম্পর্ক আরও তিক্ত করে তুলেছিলেন রুবেন অ্যামোরিম। অথচ মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে তিনি দলটির কোচের দায়িত্ব হারাবেন বলে মনে করা হচ্ছিল। একইসঙ্গে অ্যামোরিমকে ছাটাই করলে বড় অঙ্কের ক্ষতির কথাও জানত ইউনাইটেড। জেনেশুনেই গত ৫ জানুয়ারি পর্তুগিজ এই কোচকে বরখাস্ত করা হয়। তার আগে দীর্ঘ সময়ের কোচ এরিক টেন হাগকে সরিয়ে দিয়েছিল ইউনাইটেড।

এরপর পূর্বানুমানই সত্যি হয়েছে, বেশ আগেভাগেই চুক্তি ভঙ্গ করার কারণে ইউনাইটেডের ক্ষতির পরিমাণটা বেশ বড়। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত অ্যামোরিমের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ছিল। তাকে বরখাস্ত করার মাশুল হিসেবে ইউনাইটেডকে গুনতে হয়েছে ১৫.৯ মিলিয়ন পাউন্ড। এর সঙ্গে স্পোর্টিং লিসবন থেকে কোচকে আনতে তাদের আরও ৬.৩ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়। সবমিলিয়ে ২১ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৬০৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা গচ্ছা গেছে ইংলিশ এই ক্লাবটির।

সম্প্রতি অ্যামোরিমের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করতে গিয়ে ওই পরিমাণ অর্থ খরচের হিসাবটি তুলে ধরেছে ইউনাইটেড। ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্পোর্টিং লিসবন ছেড়ে ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়েছিলেন অ্যামোরিম। কিন্তু ১৪ মাসের মাথায় তার নতুন এই অধ্যায়ের ইতি ঘটল। শুরুতে অ্যামোরিমকে পেতেও ইউনাইটেডের বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হয়েছিল, তার সাবেক ক্লাব বেনফিকাকে দিতে হয়েছিল এক কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। এ ছাড়া তার আগে এরিক টেন হাগকে ছাটাই করতে গিয়ে ইউনাইটেডের এক কোটি চার লাখ পাউন্ড খরচ হয়েছিল।

এদিকে, সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সর্বশেষ দুই কোচের (টেন হাগ ও অ্যামোরিম) ছাটাইয়ে সর্বমোট ৩৭ মিলিয়ন পাউন্ড হাতছাড়া হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। এর আগে ২০১৪ সালে মাত্র ৮ মাসের মাথায় ক্লাবটি বরখাস্ত করেছিল তৎকালীন কোচ ডেভিড ময়েসকে। তারপর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত অধ্যায়ের দেখা মিলল অ্যামোরিমকে দিয়ে। তার অধীনে সবমিলিয়ে ৬৩ ম্যাচের মধ্যে ২৫টিতে জিতেছে ইউনাইটেড। এমনকি ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমের (রেলিগেশন) পর তারা সর্বনিম্ন ১৫তম হয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুম শেষ করেছিল।

পর্তুগিজ এই কোচের সঙ্গে চাকরি হারায় তার পুরো কোচিং স্টাফ। ইউনাইটেডের কোচিং অধ্যায় শেষ হওয়ার পর অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি অ্যামোরিম। পরবর্তীতে ২০ বারের ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ইউনাইটেড চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত মেয়াদে কোচ করেছে মাইকেল ক্যারিককে। সাবেক এই ইউনাইটেড ফুটবলার ক্লাবটিকে এই মুহূর্তে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ স্থানে উন্নীত করেছেন।