বিএসইসির এফডিআর বাড়ছে: সংকুচিত হচ্ছে মধ্যস্থতাকারীরা
ইব্রাহিম হোসাইন (রেজোয়ান)
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি অলাভজনক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তারপরেও সংস্থাটির বিভিন্নভাবে আয়ের মাধ্যমে নিয়মিত নিজস্ব তহবিল (ফান্ড) বাড়াচ্ছে। কিন্তু এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো আয় কমে ও বিএসইসির নির্ধারিত বিভিন্ন ফি দিতে গিয়ে নিয়মিত সংকুচিত হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এই বাজার থেকে ব্যবসা করে মুনাফা করার জন্য এসেছে।
শেয়ারবাজার গত কয়েক বছর ধরে মন্দা। এরমধ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন ...
ইব্রাহিম হোসাইন (রেজোয়ান)
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি অলাভজনক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তারপরেও সংস্থাটির বিভিন্নভাবে আয়ের মাধ্যমে নিয়মিত নিজস্ব তহবিল (ফান্ড) বাড়াচ্ছে। কিন্তু এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো আয় কমে ও বিএসইসির নির্ধারিত বিভিন্ন ফি দিতে গিয়ে নিয়মিত সংকুচিত হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এই বাজার থেকে ব্যবসা করে মুনাফা করার জন্য এসেছে।
শেয়ারবাজার গত কয়েক বছর ধরে মন্দা। এরমধ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ মন্দা চলছে। যে বাজার কখনো কখনো সাময়িকভাবে ভালো হলেও বেশিরভাগ সময় কাটে মন্দায়। এতে করে বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকে থাকতেই হিমশিম খেতে হয়। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বিলুপ্তুও হয়ে গেছে। কেউ কেউ ভালো কিছুর আশায় লোকসান দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএসইসি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে আয় করার জন্য সরকার বিএসইসি প্রতিষ্ঠা করেনি। কোন আয় না হলেও বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতনাদি পাবেন। তারপরেও বিএসইসি যেভাবে নিজের আয়ের প্রতি আগ্রহী, সেটা ঠিক না। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির উচিত ফি কমিয়ে বাজার মধ্যস্থাতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা।
শেয়ারবাজারে বিভিন্ন বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে-স্টক ব্রোকার ৪৫৮টি, স্টক ডিলার ৪৩০টি, সম্পদ ব্যবস্থাপক ৬৯টি, মার্চেন্ট ব্যাংক ৬৬টি ও ফান্ড ম্যানেজার ২৬টি। তবে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অযোগ্যতায় ভালো নেই এসব প্রতিষ্ঠান।
তবে অলাভজনক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির তহবিল বেড়েই চলেছে। দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বিএসইসির নিট তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭৪ কোটি ৭১ লাখ টাকায়। যার পরিমাণ ওই অর্থবছরের শুরুতে ছিল ৪৪৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এভাবে প্রতিবছর নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল বাড়ছে।
বিএসইসির কাছে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে ৪২১ কোটি ১ লাখ টাকার নগদ ও নগদ সমতুল্য সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে ১৩৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত বিনিয়োগ (এফডিআর) করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নগদ ও নগদ সমতুল্য সম্পদ ছিল ৩৯৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা, এরমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি এফডিআর ছিল ১১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি ছায়েদুর রহমান অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, বিএসইসি একটি সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির কোন আয় না হলেও সব ব্যয় সরকার বহন করবে। এ অবস্থায় বিএসইসির ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি করার আসলে দরকার নেই। যেখানে বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অবস্থা নাজুক। এক্ষেত্রে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের ফি কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএসইসি ১০৫ কোটি ৫ লাখ টাকা আয় করেছে। এরমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা থেকে বিএসইসির ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা আয় হয়েছে।
এদিকে বিএসইসির ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৭৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মচারীদের বেতনাদিবাবদ ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এরপরে অনুদান ও অন্যান্যবাবদ ২৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
এ হিসাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয়ের থেকে ২৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিএসইসি একটি সংবিধিবদ্ধ সংগঠন। যার খরচ মেটানোর জন্য বিএসইসি আইন-১৯৯৩ এর ১২ ধারা অনুযায়ি, একটি তহবিল রয়েছে। যে তহবিলে সরকারি অনুদান ও বিএসইসি’র নিজস্ব আয় থেকে অর্থের যোগান হয়। তবে সংস্থাটি গত ১৮ বছর বা ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে নিজস্ব আয় দিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে কোন ধরনের সরকারি অনুদান ছাড়াই নিজেদের সব ব্যয় পরিশোধ করছে তাদের আয় থেকে।
