সেমিফাইনালে ছক্কার ছড়াছড়ি
খেলাধূলা ডেস্ক : ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম রানবন্যায় ভেসে গেছে। হয়েছে ছক্কার ছড়াছড়ি, যাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন ও জ্যাকব বেথেল।
২৫৩/৭— সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের মোট সংগ্রহ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির একটি নকআউট (কিংবা প্লে অফ) ম্যাচে কোনো দলের সর্বোচ্চ। একই তালিকায় ইংল্যান্ডের ৭ উইকেটে ২৪৬ রান দ্বিতীয় স্থানে।
আগের সর্বোচ্চ রান ছিল ইতালির। ২০২৪ সালে রোমানিয়ার বিপক্ষে তারা সাব রিজিওনাল ইউরোপ কোয়ালিফায়ারে এ গ্রুপ ফাইনালে ৪ উইকেটে ২৪৪ রান করেছিল। বৃহস্পতিবারের আগে কেবল একটি ...
খেলাধূলা ডেস্ক : ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম রানবন্যায় ভেসে গেছে। হয়েছে ছক্কার ছড়াছড়ি, যাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন ও জ্যাকব বেথেল।
২৫৩/৭— সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের মোট সংগ্রহ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির একটি নকআউট (কিংবা প্লে অফ) ম্যাচে কোনো দলের সর্বোচ্চ। একই তালিকায় ইংল্যান্ডের ৭ উইকেটে ২৪৬ রান দ্বিতীয় স্থানে।
আগের সর্বোচ্চ রান ছিল ইতালির। ২০২৪ সালে রোমানিয়ার বিপক্ষে তারা সাব রিজিওনাল ইউরোপ কোয়ালিফায়ারে এ গ্রুপ ফাইনালে ৪ উইকেটে ২৪৪ রান করেছিল। বৃহস্পতিবারের আগে কেবল একটি দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুইশর বেশি রান করেছিল। ২০১২ সালের আসরে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২০৫ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৬– আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের আড়াইশ ছাড়ানো স্কোরের সংখ্যা, অন্য দলের চেয়ে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে, ৩ বার) দ্বিগুণ। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়েও আড়াইশর বেশি রান করা দল তারা, সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে (৫) ছাড়িয়ে গেল এদিন।
৪— টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ফাইনাল খেলার সংখ্যা, এর আগে ২০০৭, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের ফাইনালে উঠেছিল তারা, যা সর্বোচ্চ। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড তিনবার ফাইনাল খেলেছে।
ভারত প্রথম ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে। তাদের আগে কেবল দুটি দল টানা দুইবার ফাইনাল খেলেছিল– পাকিস্তান (২০০৭ ও ২০০৯) ও শ্রীলঙ্কা (২০১২ ও ২০১৪)।
১৫— সব মিলিয়ে আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের ফাইনাল খেলার সংখ্যা, যে কোনো দল হিসেবে সর্বোচ্চ। তারা পেছনে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়াকে (১৪)। ভারত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে চারবার করে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাঁচবার ও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবার।
৪৯৯— বৃহস্পতিবার ভারত ও ইংল্যান্ডের মোট রান এটি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মিলিত রান। সর্বোচ্চ ৫১৭ রান হয়েছিল ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে।
তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ রান। তারা পেছনে ফেলেছে ২০১৬ সালে এই ওয়াংখেড়েতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের ৪৫৯ রানের কীর্তিকে।
১০৫— জ্যাকব বেথেলের রান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে সর্বোচ্চ। গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফিন অ্যালেনের অপরাজিত ১০০ রানকে পেছনে ফেলেছেন ইংল্যান্ড ব্যাটার। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নকআউটে (কিংবা প্লে অফ) বেথেলের এই ইনিংস পঞ্চম সর্বোচ্চ।
২২ বছর ১৩৩ দিন— এই ম্যাচের দিনে বেথেলের বয়স, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান। তার উপরে আছেন ব্রায়ান বেনেট (২১ বছর ৩২৪ দিন) ও আহমেদ শেহজাদ (২২ বছর ১২৭ দিন)। বেথেলের প্রথম শ্রেণি, লিস্ট এ ও টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরির সবগুলোই এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, যা প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের কীর্তি।
৪৬— সেঞ্চুরি করার পথে বেথেলের খেলা বলের সংখ্যা। বিশ্বকাপে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩ বলে অ্যালেনের সেঞ্চুরি দ্রুততম। বেথেল ফিফটি করতে খেলেছেন ১৯ বল, এই প্রতিযোগিতায় যা ইংল্যান্ডের দ্রুততম। গত মাসে ইতালির বিপক্ষে উইল জ্যাকসের ২১ বলের ফিফটিকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।
১৯— বিশ্বকাপ ইনিংসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৯ ছক্কা মেরেছে ভারত। ২০১৪ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস ও এই বিশ্বকাপে ওয়াংখেড়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯ ছক্কার ইনিংসে নাম লিখল তারা।
৭— বৃহস্পতিবার জোফরা আর্চারকে সাতটি ছয় মেরেছেন ভারতীয় ব্যাটাররা। একটি বিশ্বকাপ ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বেশি ছক্কা হজমের ঘটনা। স্টুয়ার্ট ব্রডও ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে সাত ছয় হজম করেন, জাভিয়ের দোহার্টিও ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একই অবাঞ্ছিত রেকর্ডের ভাগিদার হন।
চার ওভারে আর্চার ৬১ রান খরচ করেছেন, বিশ্বকাপ ম্যাচে যা কোনো ইংল্যান্ড বোলারের সর্বোচ্চ।
৭৩— ভারত ও ইংল্যান্ড মোট ৭৩টি বাউন্ডারি মেরেছে, যা বিশ্বকাপ ম্যাচে সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ। বাউন্ডারি থেকে এসেছে ৩৬০ রান, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে সর্বোচ্চ এবং বিশ্বকাপ ম্যাচে প্রথমবার বাউন্ডারি থেকে তিনশর বেশি রান এসেছে। ৪০ ওভারের মধ্যে কেবল চারটিতে কোনো বাউন্ডারি আসেনি।
দুই দল সব মিলিয়ে ৩৪ ছক্কা মেরেছে, যা বিশ্বকাপে আরেকটি রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ।
৮৮— চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ভারত ৮৮টি ছক্কা মেরেছে, যা কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো দলের সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল বুলগেরিয়ার দখলে, ২০২৫ সালে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে ৭৮ ছক্কা মেরেছিল তারা।
