সোনালি আঁশ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালি আঁশ কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে কোটি কোটি টাকার এমন সম্পদ দেখিয়েছে, যা বাস্তবে নেই। এরমধ্যে কিছু ভুয়া সম্পদ দেখানোর মাধ্যমে যেমন কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে, একইভাবে অনেক সম্পদ আদায়যোগ্য না হওয়ায় কোম্পানির লোকসান হয়েছে। যারা এ কোম্পানিটি থেকে নিজেদের ব্যক্তিগত কোম্পানিতে পণ্য নিলেও টাকা পরিশোধ করছে না। যা কোম্পানিটির আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় উঠে এসেছে।
হিসাববিদদের মতে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি ভুয়া সম্পদ দেখিয়ে ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালি আঁশ কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে কোটি কোটি টাকার এমন সম্পদ দেখিয়েছে, যা বাস্তবে নেই। এরমধ্যে কিছু ভুয়া সম্পদ দেখানোর মাধ্যমে যেমন কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে, একইভাবে অনেক সম্পদ আদায়যোগ্য না হওয়ায় কোম্পানির লোকসান হয়েছে। যারা এ কোম্পানিটি থেকে নিজেদের ব্যক্তিগত কোম্পানিতে পণ্য নিলেও টাকা পরিশোধ করছে না। যা কোম্পানিটির আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় উঠে এসেছে।
হিসাববিদদের মতে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি ভুয়া সম্পদ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। যাতে পরবর্তীতে ওইসব ভুয়া সম্পদ আদায় হয় না বলে লোকসান দেখায়। প্রকৃতপক্ষে কোম্পানি থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে ওইসব অস্তিত্বহীন ভুয়া সম্পদ দেখানো হয়।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিদেশী গ্রাহকের কাছে ২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে কয়েক বছর ধরে দেখিয়ে আসছে। তবে এ নিয়ে প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি। যাতে ওই অর্থের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া কাঁচামাল সরবরাহকারীকে ২৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদানের দাবি করলেও তার সত্যতা পায়নি নিরীক্ষক।
এই সোনালি আঁশের গ্রুপের অন্য কোম্পানি থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে। যা কয়েক বছর ধরে দেখিয়ে আসছে, কিন্তু পরিশোধ করছে না।
অপরদিকে গ্রুপের অন্য কোম্পানি থেকে সোনালি আঁশ ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। যা কয়েক বছরে ধরে একইভাবে পড়ে রয়েছে। কিন্তু পরিশোধ করছে না। আর এনআইপি কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি করলেও তার স্বপক্ষে নিরীক্ষককে প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি সোনালি আঁশ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকার কাঁচামাল কেনার তথ্য প্রকাশ করলেও তার স্বপক্ষে নিরীক্ষককে প্রমাণাদি দিতে পারেনি সোনালি আঁশ কর্তৃপক্ষ।
নোট-২.২১ অনুযায়ি, এ কোম্পানিতে প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন করা হয়, পরিচালনায় ট্রাস্টি আছে এবং সমান ৮.৩৩% হারে কোম্পানি ও কর্মীরা এ ফান্ড গঠন করে। তবে নিরীক্ষক কোম্পানিটিতে স্থায়ী ১৫৭৭ জন কর্মীর জন্য বেসিক বেতনের ৮.৩৩% এ ফান্ড গঠন করা হয়নি।
কোম্পানিটিতে ১ কোটি ৯ লাখ টাকার শ্রমিক ফান্ড রয়েছে। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ি তা বিতরন করেনি। এমনকি কোম্পানিটিতে এ বিষয়ে পৃথক কোন বোর্ড, দলিল বা নিয়ম নেই।
কোম্পানিটিতে ২৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মজুদ পণ্য ছিল বলে আর্থিক হিসাবে দেখায়। তবে ওই মজুদ পণ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি নিরীক্ষক। কারন কোম্পানিটিতে মজুদ পণ্যে অগোছালো এবং এলোমেলো অবস্থায় ছিল।
এসব বিষয়ে জানতে সোনালি আঁশের কোম্পানি সচিব মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া সোনালি আঁশের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৮.৯৮ শতাংশ। কোম্পানিটির সোমবার (০৯ মার্চ) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৫৫.৩০ টাকায়।
