ন্যাশনাল ফিড থেকে অর্থ পাঁচার
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ১১ বছরের মধ্যে শেষ ৯ বছর ধরে ব্যবসায় ধুকছে ন্যাশনাল ফিড মিল। আর এই কোম্পানিটি থেকেই উদ্যোক্তা/পরিচালকদের ব্যক্তিগত কোম্পানিতে অবৈধভাবে টাকা সড়ানো হয়েছে। এতে প্রতারিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
ন্যাশনাল ফিড মিল ২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এ কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ১৮ কোটি টাকা সংগ্রহের পরে ২ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ১ টাকার উপরে থাকে। এরপরে শুরু ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ১১ বছরের মধ্যে শেষ ৯ বছর ধরে ব্যবসায় ধুকছে ন্যাশনাল ফিড মিল। আর এই কোম্পানিটি থেকেই উদ্যোক্তা/পরিচালকদের ব্যক্তিগত কোম্পানিতে অবৈধভাবে টাকা সড়ানো হয়েছে। এতে প্রতারিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
ন্যাশনাল ফিড মিল ২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এ কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ১৮ কোটি টাকা সংগ্রহের পরে ২ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ১ টাকার উপরে থাকে। এরপরে শুরু হয় পতন। যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ০.৫৬ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ০.১৫ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ০.১৭ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ০.১৮ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ০.০৮ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ০.০২ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে (০.৭১) টাকা ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ০.০৩ টাকা ইপিএস হয়েছে। ব্যবসায় এমন দূর্বল কোম্পানিটি থেকে অন্য ২ কোম্পানিতে প্রায় ৪ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, আর্থিক হিসাবের নোট-৮.০০ এ অ্যাডভান্স, ডিপোজিট ও প্রিপেমেন্টস হিসাবে ৪ কোটি ১ লাখ টাকা অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এরমধ্যে ব্যবসায়িক কোন স্বার্থ ছাড়াই উদ্যোক্তা/পরিচালকদের ব্যক্তিগত কোম্পানি ন্যাশনাল হ্যাচারিতে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ও কর্ণপুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কোম্পানিটির আর্থিক হিসাবে কাঁচামাল কেনার জন্য সরবরাহকারীকে অগ্রিম ৫২ লাখ টাকা ও অন্যান্য সরবরাহকারী ১৩ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদানের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নিরীক্ষক এসব বিষয়ে লেজার, সরবরাহকারীর তালিকা ও অন্যান্য প্রমাণাদি পায়নি। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা টাকা আত্মসাত করে ভুয়া অগ্রিম প্রদানের তথ্য আর্থিক হিসাবে তুলে ধরতে পারে।
ন্যাশনাল ফিড মিল থেকে কোন ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া বাকিতে পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। যা এখন আদায় হচ্ছে না। এ কারনে গ্রাহকদের কাছে কোম্পানিটির পাওনার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৮৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তারপরেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ হিসাব মান অনুযায়ি ওই পাওনার মধ্যে আদায় অযোগ্য অর্থ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হিসাব থেকে বাদ দেয়নি এবং কোন সঞ্চিতি গঠন করেনি।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ি, মুনাফার ৫ শতাংশ দিয়ে ওয়ার্কার্স প্রফিট অ্যান্ড পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) গঠন এবং শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করতে হয়। এই আইনের আওতায় কোম্পানিটিতে ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার ফান্ড গঠন করা হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ি কয়েক বছর ধরে প্রদান করছে না।
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ফিডের ৯৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) মালিকানা রয়েছে ৬৯.৬০ শতাংশ। কোম্পানিটির মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শেয়ার দর রয়েছে ১৪.৬০ টাকায়।
