এলসি সংকটে ভয়াবহ মন্দায় বসুন্ধরা পেপার
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস ভালো মুনাফা ও লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। তবে একই খাতের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি বসুন্ধরা পেপার মিলস এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। কোম্পানিটি লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ওপেন করতে না পেরে কাঁচামাল সংকটে ভয়াবহ মন্দার কবলে পড়েছে। যে কোম্পানিটির দেড় বছরে পাহাড়সম লোকসান হয়েছে।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, বসুন্ধরা পেপারের কাঁচামাল সংকটে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বিক্রি তাৎপূর্যপূর্ণভাবে কমেছে। এর ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস ভালো মুনাফা ও লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। তবে একই খাতের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি বসুন্ধরা পেপার মিলস এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। কোম্পানিটি লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ওপেন করতে না পেরে কাঁচামাল সংকটে ভয়াবহ মন্দার কবলে পড়েছে। যে কোম্পানিটির দেড় বছরে পাহাড়সম লোকসান হয়েছে।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, বসুন্ধরা পেপারের কাঁচামাল সংকটে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বিক্রি তাৎপূর্যপূর্ণভাবে কমেছে। এর অন্যতম কারন ডলার সংকটে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ওপেন করতে না পারায় কাঁচামাল ক্রয় করতে না পারা। এতে করে কোম্পানিটির স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম সম্ভব হয় না।
এ কোম্পানিটির ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৩১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল। যার পরিমাণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নেমে এসেছে ৬০৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়। এক্ষেত্রে বছরের ব্যবধানে পণ্য বিক্রি কমেছে ৭১২ কোটি ১২ লাখ টাকা বা ৫৪ শতাংশ।
এদিকে কোম্পানিটির উৎপাদন কমে গেলেও কিছু স্থায়ী ব্যয় আগের মতোই রয়েছে। এতে করে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এই ব্যয় বৃদ্ধির কারনের মধ্যে রয়েছে- মেশিনারিজের ব্যবহার কম, স্থায়ী ওভারহেড ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির কারনে কাঁচামাল ব্যয় বৃদ্ধি। এসব কারনে ব্যয় বৃদ্ধিতে মুনাফার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
জানা গেছে, বসুন্ধরা পেপারের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৩১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদনে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ৬০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ উৎপাদন ব্যয়ের হার ছিল ৮০.৬১ শতাংশ। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ৯৩.৮৯ শতাংশ। এই অর্থবছরে ৬০৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ৫৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
উচ্চ মূল্যে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বসুন্ধরা পেপার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বড় লোকসানের কবলে পড়ে। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ১৮.৯৮ টাকা করে ৩২৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা লোকসান হয়। যার ধারাবাহিকতা চলতি অর্থবছরেও রয়েছে।
এ কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৪.৩৪ টাকা। যার পরিমাণ আগের অর্থবছরের একইসময়ে হয়েছিল ৫.৮৪ টাকা। এ হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ৮.৫০ টাকা বা ১৪৬ শতাংশ।
অথচ সমজাতীয় পণ্যের ব্যবসা করা সোনালি পেপারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৭.১৭ টাকা। যার উপর ভিত্তি করে কোম্পানিটির পর্ষদ ৪০% নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।
আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক পারফরমেন্স দেখিয়ে বসুন্ধরা পেপার মিলস শেয়ারবাজারে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিটি শেয়ার ৮০ টাকা ও সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিটি ৭২ টাকা করে ইস্যুর মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তবে শেয়ারবাজারে আসার পরে কোম্পানিটির লেনদেন পূর্ব ৬৯ কোটি টাকা মুনাফা সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৩০ কোটি টাকার লোকসানে নেমে এসেছে। অথচ শেয়ারবাজার থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে কোম্পানিটির ৩০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা বেড়েছে।
ইস্যু ম্যানেজার এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে বুক বিল্ডিংয়ে শেয়ারবাজারে আসে বসুন্ধরা পেপার। কোম্পানিটি শেয়ারবাজারের আসার শুরুতেই কাট-অফ প্রাইস অতিমূল্যায়িত হওয়া নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ে। এক্ষেত্রে অবশ্য কিছু যোগ্য বিনিয়োগকারীর সক্রিয় ও কৃত্রিম সহযোগিতার অভিযোগ আছে। যে শেয়ারটি এখন ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ২৮.৩০ টাকায়। এ হিসেবে কোম্পানিটিতে ক্যাপিটাল গেইনের পরিবর্তে বিনিয়োগ এখন লোকসানে।
