অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এমবি ফার্মার বিরুদ্ধে সাড়ে ৭ বছর বিনিয়োগের তথ্য গোপন রাখার ভয়াবহ তথ্য জানিয়েছেন নিরীক্ষক। এই দীর্ঘ সময়ে ওই বিনিয়োগ থেকে কোন লভ্যাংশও পায়নি কোম্পানিটি। এমনকি এখন বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়েই তৈরী হয়েছে শঙ্কা।

কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে এ তথ্য জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, এমবি ফার্মা থেকে বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজে সাড়ে ৭ বছরে (২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি-২০২৪ সালের ৩০ জুন) বিনিয়োগ করা হয় ৪ কোটি ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এমবি ফার্মার বিরুদ্ধে সাড়ে ৭ বছর বিনিয়োগের তথ্য গোপন রাখার ভয়াবহ তথ্য জানিয়েছেন নিরীক্ষক। এই দীর্ঘ সময়ে ওই বিনিয়োগ থেকে কোন লভ্যাংশও পায়নি কোম্পানিটি। এমনকি এখন বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়েই তৈরী হয়েছে শঙ্কা।

কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে এ তথ্য জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, এমবি ফার্মা থেকে বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজে সাড়ে ৭ বছরে (২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি-২০২৪ সালের ৩০ জুন) বিনিয়োগ করা হয় ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। তবে তারা ওই সাড়ে ৭ বছর বিনিয়োগের তথ্য আর্থিক হিসাবে নথিভুক্ত এবং প্রকাশ করেনি।

এই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) আরও ৬৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর মাধ্যমে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এরপরে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ করেছে। এভাবে দেরীতে প্রকাশের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডের (আইএফআরএস) বিচ্যুতি ঘটনা হয়েছে।

তবে আগের বছরগুলোতে বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ না করার অনিয়মের বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

এদিকে এমবি ফার্মা থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ লাখ ৫০ হাজার রাইট শেয়ারের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৫ লাখ টাকা প্রদান করা হলেও তার বিপরীতে শেয়ার পায়নি বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক।

এছাড়া এমবি ফার্মা থেকে রাইট শেয়ারসহ মোট বিনিয়োগের বিপরীতে বেঙ্গল মিট প্রসেসিং থেকে দেওয়া সার্টিফিকেটের ফটোকপি ছাড়া কোন কাগজপত্র বা প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

এদিকে ওই বিনিয়োগ থেকে এখনো কোন লভ্যাংশ পায়নি এমবি ফার্মা। এই লম্বা সময়েও কোন লভ্যাংশ না পাওয়ায় বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

এ বিষয়ে জানতে এমবি ফার্মার সচিব মোহাম্মদ আমির হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এমবি ফার্মার এখনো এজিএম হয়নি। এজিএমে শেয়ারহোল্ডাররা এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশ্ন করতে পারবেন। তারপরেও বার্ষিক প্রতিবেদনে পরিচালকদের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা আছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এমবি ফার্মার পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ২২.৭৫ শতাংশ।