সহযোগি কোম্পানিতে আরামিটের পাওনা ৫২ কোটি টাকা, আদায় নিয়ে শঙ্কা
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের পুরাতন ও শেয়ারবাজারের কোম্পানি আরামিট লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে ভালো ব্যবসা ও লভ্যাংশ দিয়ে আসছিল। তবে ৬ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটি থেকে গ্রুপের অন্যান্য ৫ কোম্পানিতে প্রায় ৫২ কোটি টাকা বাকিতে পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে এবং অন্য দুটির অবস্থাও ভালো না। যাতে ওই টাকা আদায় নিয়ে শঙ্কা তৈরী হয়েছে। এতে করে স্বল্পমূলধনী আরামিট লিমিটেডের ব্যবসা বড় ধরনের হুমকিতে ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের পুরাতন ও শেয়ারবাজারের কোম্পানি আরামিট লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে ভালো ব্যবসা ও লভ্যাংশ দিয়ে আসছিল। তবে ৬ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটি থেকে গ্রুপের অন্যান্য ৫ কোম্পানিতে প্রায় ৫২ কোটি টাকা বাকিতে পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে এবং অন্য দুটির অবস্থাও ভালো না। যাতে ওই টাকা আদায় নিয়ে শঙ্কা তৈরী হয়েছে। এতে করে স্বল্পমূলধনী আরামিট লিমিটেডের ব্যবসা বড় ধরনের হুমকিতে পড়েছে।
আরামিট লিমিটেডের সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, আরামিট লিমিটেডের সহযোগি বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামে ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা, আরামিট ফুটওয়্যারে ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, আরামিট পাওয়ারে ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, আরামিট স্টিল পাইপসে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ও আরামিট আলু কম্পোজিট প্যানেলের কাছে ৮৬ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর কাছে মোট পাওনা ৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তবে এসব কোম্পানির মধ্যে আরামিট পাওয়ার ও আরামিট সিমেন্ট ছাড়া বাকি কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং ইক্যুইটি ঋণাত্মক রয়েছে কয়েক বছর ধরে। যাতে কোম্পানিগুলো থেকে অর্থ আদায় নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন নিরীক্ষক।
তবে ব্যবসায়িক মন্দায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরামিট সিমেন্টের কারখানাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত বছরের ২২ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর একটি পরদির্শক দল সরেজমিনে পরিদর্শনে এই বন্ধ পায়। যে কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক হিসাব অনুযায়ি গত অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই ২০২৪-মার্চ ২০২৫) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫.৯৬ টাকা।
আরামিট থেকে নর্থ ওয়েস্ট সিকিউরিটিজের মাধ্যমে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা আছে বলে আর্থিক হিসাবে তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে নিরীক্ষক ব্রোকারেজ হাউজটি থেকে প্রাপ্ত পোর্টফোলিওর সঙ্গে ওই বিনিয়োগ হিসাবের গরমিল তথ্য পেয়েছেন। যেখানে ৫৭ হাজার টাকার ঘাটতি পেয়েছেন নিরীক্ষক।
এদিকে ভালো ব্যবসা করে আসা আরামিট লিমিটেড এখন লোকসানের কবলে পরিণত হয়েছে। এ কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরের ১ম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে (১.১৯) টাকা। যার পরিমাণ এর আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল মুনাফা ০.৪৪ টাকা। এ হিসাবে ব্যবসায় পতন হয়েছে ১.৬৩ টাকা বা ৩৭০ শতাংশ। উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া আরামিট লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৬ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৩৯.২৭ শতাংশ মালিকানা রয়েছে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ছাড়া) বিনিয়োগকারীদের হাতে। কোম্পানিটির মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৭৩.৫০ টাকায়।
