অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ বীমা আইন ও শ্রম আইন পরিপালন করছে না। এর মাধ্যমে প্রতারণা করছেন কোম্পানিটির কর্মীদের সঙ্গে। এছাড়া আন্তর্জাতিক হিসাব মানও (আইএএস) মানছে না এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

কোম্পানিটির সর্বশেষ ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ি, প্রতিটি কোম্পানিতে ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) গঠন করা এবং তা পরবর্তী ৯ মাসের কর্মীদের মধ্যে বিতরন করা বাধ্যতামূলক। ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ বীমা আইন ও শ্রম আইন পরিপালন করছে না। এর মাধ্যমে প্রতারণা করছেন কোম্পানিটির কর্মীদের সঙ্গে। এছাড়া আন্তর্জাতিক হিসাব মানও (আইএএস) মানছে না এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

কোম্পানিটির সর্বশেষ ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ি, প্রতিটি কোম্পানিতে ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) গঠন করা এবং তা পরবর্তী ৯ মাসের কর্মীদের মধ্যে বিতরন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ তা না করে কর্মীদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে জানিয়েছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে আইনটি কার্যকর না করার বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএফআইডি। এছাড়া বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনও আবেদন করেছে। এরপরে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে বীমা খাতে ডব্লিউপিপিএফ করতে হবে না, এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও আইন অনুযায়ি ফান্ড গঠন করেনি প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর জমিবাবদ সম্পদ দেখানো হয়েছে ৩২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যা ২০১৯ সালে পূণ:মূল্যায়ন করেছিল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আইএএস-১৬ এর প্যারা ৩৪ অনুযায়ি, ওই সম্পদ ৩-৫ বছর অন্তর পূণ:মূল্যায়ন করা দরকার। সে হিসেবে নির্ধারিত সীমা বা ৫ বছর পার হয়ে গেলেও তারা পূণ:মূল্যায়ন না করে হিসাব মান লঙ্ঘন করেছেন।

বীমা কোম্পানি আইন ২০১০ অনুযায়ি উদ্যোক্তা/পরিচালকদের নন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে শেয়ার ধারন থাকতে হবে ৬০ শতাংশ। কিন্তু প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সে এ শেয়ার ধারনের হার ৪৮.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ বীমা আইন লঙ্ঘন করেছে এই বীমা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৪০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে ৫১.৫২ শতাংশ মালিকানা রয়েছে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ছাড়া) বিনিয়োগকারীদের হাতে। কোম্পানিটির শনিবার (০৪ এপ্রিল) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৫২.৩০ টাকায়।