অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অযোগ্যতার কারনে শেয়ারবাজারে শুধুই হাহাকার। এই কমিশনের ব্যর্থতায় শেয়ারবাজার চারদিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ। এ কারনে বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সব স্টেকহোল্ডাররা তাদের অপসারণ চায়। এছাড়া প্রতিদিন কমিশনের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করে। কিন্তু সেই তারাই বিএসইসির ডাকে নিয়মিত কমিশনের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় বসে। তেমনই একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার (০৫ এপ্রিল)। যেখানে ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অযোগ্যতার কারনে শেয়ারবাজারে শুধুই হাহাকার। এই কমিশনের ব্যর্থতায় শেয়ারবাজার চারদিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ। এ কারনে বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সব স্টেকহোল্ডাররা তাদের অপসারণ চায়। এছাড়া প্রতিদিন কমিশনের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করে। কিন্তু সেই তারাই বিএসইসির ডাকে নিয়মিত কমিশনের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় বসে। তেমনই একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার (০৫ এপ্রিল)। যেখানে স্টেকহোল্ডাররা স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণ করেন। তবে সাধারন বিনিয়োগকারীরা স্টেকহোল্ডারদের এই দ্বিমুখী আচরনকে ভন্ডামী বলে আখ্যায়িত করেন।

রবিবার কমিশনের সঙ্গে পুঁজিবাজার অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) ৬ষ্ঠ মাসিক সমন্বয় সভা রাজধানীর আগারগাঁও-এ বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, বিএসইসি’র কমিশনার মুঃ মোহসিন চৌধুরী, বিএসইসি’র কমিশনার মোঃ আলী আকবর, বিএসইসি’র কমিশনার ফারজানা লালারুখ, বিএসইসি’র কমিশনার মোঃ সাইফুদ্দিন, সিএফএ এবং পুঁজিবাজার অংশীজন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

এতে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোঃ ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই)’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সাইফুর রহমান মজুমদার, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নূরুল হুদা, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম খায়রুজ্জামান, আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসির সিইও মোঃ আল আমিন তালুকদার, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাফিজ আল তারিক, ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. আবিদ হোসেন খান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) এর স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, সিডিবিএল এর সিএফও মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস (বিএএসএম) এর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কামরুল আনাম খান, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালকবৃন্দ, পরিচালকবৃন্দসহ আরো অনেকে উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে পুঁজিবাজার উন্নয়নের উদ্যোগ ও কার্যক্রমসমূহ, দেশের পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট হতে ইমার্জিং মার্কেটে রূপান্তরে উদ্যোগ গ্রহণ, পুঁজিবাজারে e-KYC বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মাফিক উদ্যোগ গ্রহণ, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুকরণ, পুঁজিবাজারের প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানির জন্য সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণকরতঃ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তকরণ, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণ, সিসিবিএল এর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নকরণ ও সিসিবিএল এর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ও বিকাশ, পুঁজিবাজারে নতুন পণ্য আনয়ন ও পণ্য বৈচিত্রায়ণ, পুঁজিবাজারে সকল ধরণের কারসাজি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ, অসংশোধনযোগ্য ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ, প্রাইস সেনসেটিভ ইনফরমেশন (পিএসআই) এর যথার্থতা নিশ্চিতকরণ, নেগেটিভ ইকুইটি ও আনরিয়েলাইজড লস এর সমাধান, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এতে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, “মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫; মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫ ও পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫; এ তিনটি রুলসের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের আইনি সংস্কারের বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই কর্পোরেট গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত বিধিমালাও হবে। দেশের বৃহৎ পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তকরণে কমিশন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার(top most priority) দিয়ে কাজ করছে এবং এক্ষেত্রে সরকার ও বাজার সংশ্লিষ্টদের সহায়ক ভূমিকা প্রয়োজন।”