অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক :   অবশেষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে অপসারণের চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যে খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ারবাজার নিয়ে আশার সঞ্চার তৈরী হয়েছে। যাতে রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছে।

জানা গেছে, চেয়ার আঁকড়ে ধরে রাখার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন শেয়ারবাজারের খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তাকে সরানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এলক্ষ্যে বিএসইসিতে চেয়ারম্যান নিয়োগে বয়স সীমা তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া বীমা উন্নয়ন ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : অবশেষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে অপসারণের চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যে খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ারবাজার নিয়ে আশার সঞ্চার তৈরী হয়েছে। যাতে রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছে।

জানা গেছে, চেয়ার আঁকড়ে ধরে রাখার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন শেয়ারবাজারের খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তাকে সরানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এলক্ষ্যে বিএসইসিতে চেয়ারম্যান নিয়োগে বয়স সীমা তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-তেও যেকোনো বয়সী চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে চায় সরকার।

বয়সের সীমা তুলে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে থাকা যায়। আর আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদে থাকা যায় ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত।

গত ১৮ মাস ধরে শেয়ারবাজারের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সংস্কার করছে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে তারা যতই সংস্কার করছে, ততই শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে করে বর্তমান কমিশনের সংস্কার এরইমধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপসংস্কার হিসেবে ধরা দিয়েছে। যে কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিছু করতে না পারলেও শুরু থেকে বিভিন্ন জনকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে বিএসইসিকে ‘শাস্তি কমিশন’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।

শেয়ারবাজারের স্বার্থে বিনিয়োগকারীরা অনেক আগে থেকেই মাকসুদের অপসারণ চান। যার অপসারণেই শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস বিনিয়োগকারীদের। কারন মাকসুদ শেয়ারবাজার বুঝেন না। এটা শুধু সাধারন বিনিয়োগকারীদের কথা না। এই কথা এখন বিএসইসির সাবেক স্বনামধন্য চেয়ারম্যানসহ স্টেকহোল্ডারদের। তাই মাকসুদের অপসারন করা উচিত।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩১৬ পয়েন্টে। যা আগেরদিন অপরিবর্তিত ছিল।

এদিন ডিএসইতে ৯৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যার পরিমাণ আগেরদিন হয়েছিল ৮৮৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার বা ১১ শতাংশ।

আজ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯১ টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৫৭ টি বা ৪০.১৫ শতাংশের। আর দর কমেছে ১৭২ টি বা ৪৩.৯৯ শতাংশের ও দর পরিবর্তন হয়নি ৫৮ টি বা ১৫.৮৬ শতাংশের।

অপরদিকে সিএসইতে রবিবার ২৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২২১ টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৯৭ টির, কমেছে ৯৬ টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৮ টির। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮৭৬ পয়েন্টে।

আগেরদিন সিএসইতে ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল। আর সূচক সিএএসপিআই ৩৪ পয়েন্ট বেড়েছিল।