সিমে ভ্যাট ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের শুল্ক বাতিলের দাবি মোবাইল অপারেটরদের
সিম ও ই-সিম সরবরাহ ও প্রতিস্থাপনের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাতিলের দাবি জানিয়েছে দেশের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)।
সোমবার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এমটব জানায়, সিমের ওপর উচ্চ ভ্যাট নিম্নআয়ের মানুষের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আলোচনায় তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) ...
সিম ও ই-সিম সরবরাহ ও প্রতিস্থাপনের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাতিলের দাবি জানিয়েছে দেশের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)।
সোমবার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এমটব জানায়, সিমের ওপর উচ্চ ভ্যাট নিম্নআয়ের মানুষের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আলোচনায় তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) বরাদ্দের সময় ভ্যাট আরোপ এবং পরবর্তীতে সেই তরঙ্গ ব্যবহার করে সেবা দেওয়ার সময় পুনরায় ভ্যাট আরোপকে ‘দ্বৈত কর’ হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি। এই করনীতি থেকে সরে আসা জরুরি বলে মত দেয় তারা।
এমটব আরও জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরদের জন্য করপোরেট কর ৪০ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্তদের জন্য ৪৫ শতাংশ নির্ধারিত, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশি। এই করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল অপারেটরদের মোট আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ বিভিন্ন কর ও ভ্যাট হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। বিশেষ করে স্পেকট্রাম নিলামের বছরগুলোতে করের চাপ আরও বেড়ে যায়। বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকপ্রতি গড় আয় বর্তমানে ১৫০ টাকার নিচে থাকায় খাতটির দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে জানায় এমটব।
এছাড়া, বর্তমানে টেলিযোগাযোগ সেবায় ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপিত রয়েছে। ডিজিটাল কানেক্টিভিটি সম্প্রসারণে এসব অতিরিক্ত কর ও সারচার্জ প্রত্যাহারের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) মোবাইল উৎপাদন খাতে কাস্টমস ও ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং গ্রে মার্কেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত জরুরি।
এমআইওবি আরও প্রস্তাব করেছে, ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ জোরদারে ডেটা ক্যাবল তৈরির উপকরণ—যেমন কপার, পিভিসি ও ইউএসবি কানেক্টর—রেয়াতি সুবিধার আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে শুধু প্রকৃত মূল্য সংযোজনের ওপর ভ্যাট আরোপের দাবি জানানো হয়, যাতে ভোক্তাদের জন্য মোবাইল ফোনের দাম আরও সাশ্রয়ী হয়।
উৎপাদন খরচ কমাতে মোবাইল যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেয় এমআইওবি। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে শতভাগ মাদারবোর্ড সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে দেশের মোবাইল উৎপাদন কারখানাগুলোর সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। নীতিগত সহায়তার মেয়াদ না বাড়ানো হলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং দেশ আবারও আমদানিনির্ভর হয়ে উঠতে পারে।
