অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে বিনিয়োগের অভিযোগে অ্যাসেট ম্যানেজার ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও ট্রাস্টি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশ্লিষ্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত ও জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ মে) বিএসইসির ১০১২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির পরিচালক ও মূখপাত্র আবুল কালাম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে বিনিয়োগের অভিযোগে অ্যাসেট ম্যানেজার ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও ট্রাস্টি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশ্লিষ্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত ও জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ মে) বিএসইসির ১০১২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির পরিচালক ও মূখপাত্র আবুল কালাম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড থেকে Bengal Poly & Paper Sack Limited–এর ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৬০ লাখ সাধারণ শেয়ারে প্রতিটি ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৫ টাকা দরে মোট ১.৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়, যা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে করা হয়েছে বলে কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় কমিশনের আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে সংশ্লিষ্ট ফান্ডে ৫.৭৪ কোটি টাকা জমা বা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে ৬.৭৫ কোটি টাকা জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০১৭ সালে একই ফান্ড থেকে AFC Health Limited–এর ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪৮ লাখ সাধারণ শেয়ারে প্রতিটি ২.৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ১২.৫০ টাকা দরে মোট ৬.০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়, যা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে।

এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কমিশনের নির্দেশ জারির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে সংশ্লিষ্ট ফান্ডে ১৪.৮৫ কোটি টাকা জমা বা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ১৬.০০ কোটি টাকা জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এছাড়া, উল্লিখিত ৩০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর অতিরিক্ত ৭ দিনের মধ্যে ফান্ড ম্যানেজার কোম্পানিকে নিজস্ব দায় হিসেবে আরোপিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রতিদিনের জন্য ১০ হাজার টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমিশন আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে Investment Corporation of Bangladesh (আইসিবি) যথাযথ তদারকি ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ায় ট্রাস্টি আইসিবিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের ওপর হঠাৎ করে ফান্ড কর্তৃক ৯৯ শতাংশ প্রভিশন রাখার বিষয়টি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে স্পষ্ট না করায় ফান্ডের নিরীক্ষক Malek Siddiqui Wali & Co.–এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি Financial Reporting Council–এ প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।