মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের প্রথম সিদ্ধান্তে মুগ্ধ কমল হাসান
তামিল সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক থেকে বাস্তব রাজনীতির শীর্ষ পদে—দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আলোচনায় উঠে এলেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা না যেতেই জনস্বার্থে নেওয়া এক সাহসী সিদ্ধান্তে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণী সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই তামিলনাড়ু জুড়ে ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০০ মিটারের ...
তামিল সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক থেকে বাস্তব রাজনীতির শীর্ষ পদে—দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আলোচনায় উঠে এলেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা না যেতেই জনস্বার্থে নেওয়া এক সাহসী সিদ্ধান্তে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণী সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই তামিলনাড়ু জুড়ে ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মদের দোকান রাখা যাবে না। নির্বাচনের আগে ‘মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু’ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্তকে তার প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কমল হাসান বলেন, “তামিল পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আজ বাস্তবে রূপ নিল। দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা অত্যন্ত দৃঢ় ও সাহসী। মদ বিক্রি করা কোনো সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত নয়—বরং তা নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের নৈতিক কর্তব্য।” তিনি আরও বলেন, “৭১৭টি দোকান বন্ধ কেবল শুরু। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আমি আশাবাদী।”
বর্তমানে তামিলনাড়ুতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৪,৭৬৫টি মদের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৬টি ধর্মীয় স্থানের কাছাকাছি এবং ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবস্থিত। এসব দোকানকেই প্রাথমিকভাবে বন্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর মদ বিক্রি থেকে তামিলনাড়ু সরকারের আয় হয়েছিল প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এত বড় রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা থাকলেও জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কমল হাসানসহ অনেকেই। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সমাজে সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে পড়বে।
