বিএসইসি চেয়ারম্যানের বিদায় বেলায় পদোন্নতি পাচ্ছে পছন্দের বিতর্কিতরা
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ–এর বিদায় চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যেকোনো সময় তাকে অপসারণ করে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে বিদায়কালীন সময়ে কমিশনের ভেতরে পছন্দের কিছু কর্মকর্তাকে বিতর্কিতভাবে পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে মাকসুদ। এক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা নিয়েছেন দূর্ণীতির অভিযোগে দুদকের জালে থাকা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলামের।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোন প্রতিষ্ঠানে যখন কারো বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন তাকে রুটিন কাজের ...
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ–এর বিদায় চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যেকোনো সময় তাকে অপসারণ করে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে বিদায়কালীন সময়ে কমিশনের ভেতরে পছন্দের কিছু কর্মকর্তাকে বিতর্কিতভাবে পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে মাকসুদ। এক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা নিয়েছেন দূর্ণীতির অভিযোগে দুদকের জালে থাকা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলামের।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোন প্রতিষ্ঠানে যখন কারো বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন তাকে রুটিন কাজের বাহিরে মূল দায়িত্বে রাখা ঠিক না। যেমনটি বিএসইসিরই কমিশনার ড. তারিকুজ্জামানের ক্ষেত্রে রাশেদ মাকসুদ কমিশন করেছিল। কারণ মূল দায়িত্বে রাখা হলে সে ওই প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিও সাধন করতে পারে। তবে পছন্দের ব্যক্তিদের পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে অযোগ্য এবং পছন্দের লোকজন পদোন্নতি পেয়ে যায়। তাই বিএসইসিতেও রাশেদ মাকসুদকে শেষ সময়ে রুটিন কাজের বাহিরে অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া ঠিক না। আর যার নেৃতৃত্বাধীন কমিশন তার সাবেক কমিশনারের সঙ্গে এমন কাজ করেছিল, সে নিজেই সেটা ভঙ্গ করা বেমানান।
সূত্রের দাবি, পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম–কে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
বিএসইসিতে সাধারনত এডমিনের নির্বাহি পরিচালককে সদস্য সচিব করে পদোন্নতি কমিটি গঠন করা হয়। তবে রাশেদ মাকসুদ সেই প্রথা ভেঙ্গে তার পছন্দের আনোয়ারুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। যিনি বিএসইসিতে ‘ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগের দায়িত্বে আছেন।
এদিকে প্রস্তাবিত পদোন্নতির তালিকায় চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, পরিচালক আবুল কালাম এবং পরিচালক মনসুর রহমানসহ অন্যান্যদের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে দূর্ণীতির দায়ে পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। যে বিগত চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রফেসর শিবলী রুবাইতুল ইসলামের সঙ্গে দূর্ণীতিতে জড়িত বলে অভিযোগ আছে। এ পরিস্থিতিতে কমিশনের অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এর মধ্যেই নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১০ মার্চ বিভিন্ন নথিপত্রসহ তাকে দুদকে তলব করা হয়।
দুদকের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইতুল ইসলাম ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মো. আনোয়ারুল ইসলামের বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ কারণে দুদক তার কাছে একাধিক রেকর্ডপত্র ও তথ্য চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— নিজ ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও নথি, আয়কর রিটার্নের সত্যায়িত কপি, ব্যাংক হিসাব ও বিভিন্ন বিনিয়োগের বিবরণ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দলিল, দায়-দেনার তথ্য, আয়ের উৎসের বিস্তারিত বিবরণ এবং কর্মস্থল, কর্মকাল ও পদোন্নতির তারিখ সংক্রান্ত তথ্য।
অন্যদিকে গত বছরের শুরুতে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামসহ ৯ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অনুকূলে ইস্যুকৃত কূটনৈতিক এবং অফিসিয়াল পাসপোর্ট বাতিল করা হয়। ওই ৯ জনের একজন বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। যিনিও পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন।
ওই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। তাদের পাসপোর্ট বাতিল সংক্রান্ত বিশেষ চিঠি দেশের সব বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এদের বিরুদ্ধে সাবেক আওয়ামী সরকারের আমলে শেয়ারবাজার কারসাজি এবং কৃত্রিম উপায়ে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে শত কোটি টাকা লুটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
