জনপ্রিয়তার আলোয় ডুবে অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিলেন হানি সিং
জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময় পার করেছেন ভারতের খ্যাতনামা গায়ক ও র্যাপার Yo Yo Honey Singh। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের মানসিক সংগ্রাম, মাদকাসক্তি এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডারের সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা অকপটে তুলে ধরেন তিনি।
হানি সিং জানান, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল—এই সময়টাকে তার জীবনের সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর অধ্যায় বলা যায়। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় সাফল্য, অর্থ ও খ্যাতির মোহে তিনি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। বাহ্যিক সাফল্যের আড়ালে ভেতরে ভেতরে তিনি ...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময় পার করেছেন ভারতের খ্যাতনামা গায়ক ও র্যাপার Yo Yo Honey Singh। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের মানসিক সংগ্রাম, মাদকাসক্তি এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডারের সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা অকপটে তুলে ধরেন তিনি।
হানি সিং জানান, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল—এই সময়টাকে তার জীবনের সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর অধ্যায় বলা যায়। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় সাফল্য, অর্থ ও খ্যাতির মোহে তিনি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। বাহ্যিক সাফল্যের আড়ালে ভেতরে ভেতরে তিনি ছিলেন চরম মানসিক অস্থিরতায় ভোগা একজন মানুষ।
তার ভাষায়, “যখন আমি সফল হলাম, যখন আমি ‘ইয়ো ইয়ো হানি সিং’ হয়ে উঠলাম, তখন চারপাশে শুধু উত্তেজনা আর উন্মাদনা ছিল। কিন্তু ভেতর থেকে আমি ভেঙে পড়ছিলাম। আমি একেবারেই সুখী ছিলাম না।”
এই সময় তার আচরণ ও ব্যক্তিত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে বলে স্বীকার করেন তিনি। হাঁটার ভঙ্গি, কথা বলার ধরন—সবকিছুই বদলে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে অপমান করতাম। মনে হতো, সবকিছু অর্জন করে ফেলেছি। এমনকি নিজেকে ঈশ্বর ভাবতেও শুরু করেছিলাম।”
অল্প বয়সেই বিপুল অর্থ ও জনপ্রিয়তার সঙ্গে মাদকাসক্তি তাকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দেয়। তার স্বীকারোক্তি, “আমার মানসিকতা এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে নিজের সেই রূপটাই আমার সহ্য হতো না।”
তবে নিজের এই অবস্থার জন্য বিনোদন জগৎ বা তারকাখ্যাতিকে দায়ী করেননি হানি সিং। বরং নিজের ভুল সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেছেন তিনি। জানান, বলিউডের দুই সুপারস্টার Shah Rukh Khan ও Akshay Kumar তাকে মাদকাসক্তির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
হানি সিং বলেন, “আমি সংগীতজগৎ বা খ্যাতিকে দোষ দিই না। আমি নিজেকেই দায়ী করি। আপনি যদি ভেতর থেকে নেতিবাচক হন, তাহলে যেকোনো জায়গাতেই নিজের জীবন ধ্বংস করে ফেলতে পারেন।”
একসময় একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই শিল্পীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার এই সাহসী আত্মসমালোচনাকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
