মাত্র চার মাসে ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি, মেঘনা পেট নিয়ে রহস্য
শেয়ারবাজারে আলোচিত উত্থানের তালিকায় যুক্ত হয়েছে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩০০ শতাংশেরও বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
গত ১৫ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দাম ছিল ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। সেখানে ২৩ মে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ চার মাসে শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৫৩ টাকা বা ৩০২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। শুধু এক মাসেই দর বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ।
এই উত্থানে অল্প সময়েই কেউ ...
শেয়ারবাজারে আলোচিত উত্থানের তালিকায় যুক্ত হয়েছে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩০০ শতাংশেরও বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
গত ১৫ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দাম ছিল ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। সেখানে ২৩ মে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ চার মাসে শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৫৩ টাকা বা ৩০২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। শুধু এক মাসেই দর বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ।
এই উত্থানে অল্প সময়েই কেউ কেউ বড় অঙ্কের মুনাফা করলেও কোম্পানিটির আর্থিক চিত্র উদ্বেগজনক। সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬৩ পয়সা। দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকায় কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশও দিতে পারেনি এবং বর্তমানে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত।
লোকসানে থাকা সত্ত্বেও এমন অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি নিয়ে বাজারে প্রশ্ন উঠেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উত্থানের পেছনে কারসাজির সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিটিকে নোটিশ দিলেও, মেঘনা পেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—দর বৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।
ডিএসইর সদস্যদের মতে, কম পরিশোধিত মূলধন ও সীমিত শেয়ারসংখ্যার কারণে এ ধরনের কোম্পানির শেয়ারে সহজেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো সম্ভব। তারা সতর্ক করে বলেন, লোকসানে থাকা ও লভ্যাংশহীন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগে বড় ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু দ্রুত দাম বাড়ার দিকে না তাকিয়ে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করা জরুরি। নইলে ‘সোনার হরিণ’ ধরতে গিয়ে বিনিয়োগকারীরা হারাতে পারেন তাদের সঞ্চিত পুঁজি।
