অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতায় কঠোর বার্তা নতুন চেয়ারম্যানের
দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা ও কাঠামোগত সংস্কারে একটি সুসংগঠিত নীতিগত রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে দেওয়া উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কমিশনের মূল ভিশন হলো বাংলাদেশি পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারী-নির্ভর একটি ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ-নির্ভর ইমার্জিং মার্কেটে রূপান্তর করা, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মূলধন সংগ্রহে সক্ষম হবে।
চেয়ারম্যান ...
দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা ও কাঠামোগত সংস্কারে একটি সুসংগঠিত নীতিগত রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে দেওয়া উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কমিশনের মূল ভিশন হলো বাংলাদেশি পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারী-নির্ভর একটি ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ-নির্ভর ইমার্জিং মার্কেটে রূপান্তর করা, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মূলধন সংগ্রহে সক্ষম হবে।
চেয়ারম্যান বলেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি আকার, শক্তি ও বৈচিত্র্যে উল্লেখযোগ্যভাবে এগোলেও পুঁজিবাজার সেই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারেনি। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে, অনেক ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে নিরুৎসাহিত হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই বাস্তবতা পরিবর্তনে কমিশন নীতিনির্ভর, ধারাবাহিক ও টেকসই সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বক্তব্যে অনিয়ম ও বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, কমিশনের উদ্দেশ্য কখনোই মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা ঠেকানো নয়; বরং ন্যায্য মূল্য আবিষ্কার (Fair Price Discovery) এবং তথ্যের সমান প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। ইনসাইডার ট্রেডিং, সার্কুলার ট্রেডিং, ওয়াশ ট্রেড, পাম্প-অ্যান্ড-ডাম্প, ফ্রন্ট রানিংসহ সব ধরনের অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। প্রয়োজনে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও বাজারের সততা রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন স্থগিতসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীতিমালার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান আরও স্মার্ট, নীতিনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর কথা জানান। বিনিয়োগকারী সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ রেখে অপ্রয়োজনীয় রিপোর্টিং, অনুমোদন ও কমপ্লায়েন্সের বোঝা কমাতে বিদ্যমান বিধিমালা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ত্রৈমাসিক ও অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক প্রতিবেদন কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ডিজিটাল রূপান্তরকে সংস্কারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, আইপিও, রাইটস ইস্যু, বন্ড ও সুকুক আবেদন, লাইসেন্সিং এবং নিয়ন্ত্রক দাখিলপ্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হবে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে, সময় ও ব্যয় কমবে এবং নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম আরও দক্ষ হবে।
একই সঙ্গে ভালো মানের তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে বহুজাতিক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বড় স্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর ও নীতিগত সুবিধা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পে সুশাসন জোরদার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণও সংস্কার এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সবশেষে চেয়ারম্যান বলেন, আস্থা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বা বক্তৃতার মাধ্যমে তৈরি হয় না; আস্থা আসে ন্যায়পরায়ণতা, স্বচ্ছতা, ধারাবাহিক নীতিমালা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে। সেই বিশ্বাস পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই নতুন কমিশনের এই সংস্কারযাত্রা শুরু।
