শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪২টি কোম্পানির ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ‘ব্যবসার ধারাবাহিকতা ঝুঁকি’ তালিকা প্রকাশ করেছে।

ডিএসই জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষকদের পর্যবেক্ষণ এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার গভীর বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সংকটে জর্জরিত। চরম আর্থিক দুরবস্থা, ধারাবাহিক লোকসান, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকা, বিপুল খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল নগদ ...

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪২টি কোম্পানির ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ‘ব্যবসার ধারাবাহিকতা ঝুঁকি’ তালিকা প্রকাশ করেছে।

ডিএসই জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষকদের পর্যবেক্ষণ এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার গভীর বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সংকটে জর্জরিত। চরম আর্থিক দুরবস্থা, ধারাবাহিক লোকসান, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকা, বিপুল খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল নগদ প্রবাহের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ৪২টি কোম্পানির ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরীক্ষকদের উদ্বেগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি সতর্কসংকেত। এটি শুধু সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর জন্য নয়, পুরো শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তিনি মনে করেন, কোম্পানি ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন; অন্যথায় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জুট স্পিনার্স, দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, তাল্লু স্পিনিং মিলস এবং শ্যামপুর সুগার মিলস।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, এই তালিকা প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সামনে কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকির চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বা উদ্বেগের বিষয় থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের জানানো প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হবে।

নিরীক্ষকদের মতে, কোনো কোম্পানির ধারাবাহিক লোকসান, ঋণাত্মক শেয়ারধারী মূলধন, চলতি দায় পরিশোধে অক্ষমতা, পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহের অভাব এবং আগামী ১২ মাস স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে সেটিকে ‘ব্যবসার ধারাবাহিকতা ঝুঁকি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে ডিএসই স্পষ্ট করেছে, এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অর্থ কোম্পানির অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বরং এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আগাম সতর্কবার্তা, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ডিএসইর দায়িত্ব হলো তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যবসার ধারাবাহিকতা নিয়ে ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা বা নিরীক্ষকের বিশেষ পর্যবেক্ষণ থাকলে তা প্রকাশ করা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারই অংশ। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে আরও সচেতন ও বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।