১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি
ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারে সংঘবদ্ধ কারসাজি
ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স–এর শেয়ার নিয়ে সংঘবদ্ধ কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিরিজ ও সার্কুলার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে শেয়ারটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুসারে ...
ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স–এর শেয়ার নিয়ে সংঘবদ্ধ কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিরিজ ও সার্কুলার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে শেয়ারটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারের দাম ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছায়—যা প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোম্পানির আর্থিক সাফল্য, ব্যবসায়িক অগ্রগতি কিংবা কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ছিল না।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৭(ই)(২) ও ১৭(ই)(৫) লঙ্ঘন করেছেন।
তদন্তে তিনটি পৃথক কারসাজি চক্রের তথ্য উঠে আসে। প্রথম চক্রটির নেতৃত্বে ছিল ওমেগা ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড ও মো. মাশরুর আলম, যারা বিপুল শেয়ার সংগ্রহ করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করেন। দ্বিতীয় চক্রে মাকসুদা রেজা, মাকসুদা আহমেদ ও তাদের দুই ছেলে একাধিক ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে ৩৩টি হাওলার মাধ্যমে ১ লাখ ১১ হাজার শেয়ারের সার্কুলার ট্রেডিং করেন। তৃতীয় চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন মরিয়ম আক্তার মিতু; তার সঙ্গে মো. খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ আবুল হোসেন হাসান, আফরোজা আক্তার ও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম যুক্ত থেকে ২৮টি হাওলার মাধ্যমে কাউন্টারপার্টি ট্রেডিং করেন।
কারসাজির মাধ্যমে এসব চক্র বিপুল মুনাফা অর্জন করলেও তদন্তে কোম্পানির কোনো উদ্যোক্তা, পরিচালক বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিএসইসির নির্দেশনায় এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
