অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক :   একদিনেই দেশের শেয়ারবাজারের প্রধান প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর চারজন উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম)-কে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ডিএসইর ইতিহাসে একসঙ্গে এভাবে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা এই প্রথম। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত চার ডিজিএম হলেন—জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগ의 মো. আব্দুল লতিফ ও হোসনে আরা পারভীন, আইসিটি বিভাগের শাহিন সারওয়ার এবং ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক। ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : একদিনেই দেশের শেয়ারবাজারের প্রধান প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর চারজন উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম)-কে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ডিএসইর ইতিহাসে একসঙ্গে এভাবে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা এই প্রথম। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত চার ডিজিএম হলেন—জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগ의 মো. আব্দুল লতিফ ও হোসনে আরা পারভীন, আইসিটি বিভাগের শাহিন সারওয়ার এবং ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক। একই সঙ্গে দুজন সিনিয়র ম্যানেজার এবং আরও দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। বরং প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ‘রিসোর্স অপটিমাইজেশন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, জনবল পুনর্গঠনের মাধ্যমে ডিএসইকে আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোয় রূপান্তর করাই লক্ষ্য।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাকরিচ্যুতির এই প্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়। আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে পর্যায়ক্রমে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বর্তমানে ডিএসইর ভেতরে চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

চাকরিচ্যুত এক ডিজিএম-কে দেওয়া অফিসিয়াল চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিএসইর জনবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রয়োজন বিবেচনায় তার পদটি আর প্রয়োজন নেই বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠি অনুযায়ী, চাকরি অবসানের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ১২০ দিনের সমপরিমাণ মোট বেতন নোটিশের পরিবর্তে পাবেন। পাশাপাশি চলতি মাসের বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের পাওনা, গ্র্যাচুইটি সুবিধা, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ ও ডব্লিউডব্লিউএফ), অব্যবহৃত বার্ষিক ছুটির নগদায়নসহ ডিএসইর নীতিমালা অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

এছাড়া ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে অতিরিক্ত দুই মাসের সমপরিমাণ মোট বেতন দেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এ সুবিধা সম্পূর্ণভাবে ডিএসইর বিবেচনাধীন এবং এটি ভবিষ্যতে কোনো আইনি অধিকার বা নজির সৃষ্টি করবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

চূড়ান্ত পাওনার হিসাব প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে এবং সাত দিনের মধ্যে কোনো আপত্তি না জানালে সেটিকেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে। প্রযোজ্য কর, ঋণ বা অন্যান্য দায় সমন্বয়ের পর চাকরি অবসানের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চেকের মাধ্যমে সব অর্থ পরিশোধ করা হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, চাকরি অবসানের দিনই পরিচয়পত্র, নথিপত্র, ব্যবসায়িক কার্ডসহ ডিএসইর সব সম্পদ ও গোপনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে হস্তান্তর করতে হবে। চাকরি শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা রক্ষার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।

ডিএসইর এক কর্মকর্তা বলেন, “ডিএসইর ইতিহাসে এভাবে হুট করে ডেকে নিয়ে চাকরিচ্যুত করার নজির নেই। ফলে এখন সবাই আতঙ্কে আছেন—কে কখন চাকরি হারান, সেই ভয় কাজ করছে।”

চাকরিচ্যুতদের একজন মো. আব্দুল লতিফ বলেন, চিঠিতে তাকে চাকরিচ্যুত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি জানান, “আমি যখন ডিএসইতে যোগ দিই, তখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলাম। এত বছর কাজ করার পর যদি এটাই ফিডব্যাক হয়, তাহলে বলার কিছু নেই।”

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি।

হঠাৎ ও নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্ত ডিএসইর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং কর্মীদের চাকরি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।