মাকসুদ কমিশনের বিদায় হলেও স্টক এক্সচেঞ্জে বহাল তাদের নিয়োগ দেওয়া পর্ষদ
শেয়ারবাজারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)–এর চেয়ারম্যানসহ চার কমিশনার। তবে কমিশনের বিদায় হলেও তাদের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত পরিচালনা পর্ষদ দিয়েই এখনো পরিচালিত হচ্ছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।
সরকারের চাপের মুখে ব্যর্থতার দায়ে ‘মাকসুদ কমিশন’কে সরে যেতে বাধ্য হয়। যদিও সরাসরি অপসারণ না করে কৌশলগতভাবে গত ৪ জুন বিএসইসি থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ...
শেয়ারবাজারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)–এর চেয়ারম্যানসহ চার কমিশনার। তবে কমিশনের বিদায় হলেও তাদের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত পরিচালনা পর্ষদ দিয়েই এখনো পরিচালিত হচ্ছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।
সরকারের চাপের মুখে ব্যর্থতার দায়ে ‘মাকসুদ কমিশন’কে সরে যেতে বাধ্য হয়। যদিও সরাসরি অপসারণ না করে কৌশলগতভাবে গত ৪ জুন বিএসইসি থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং কমিশনার মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিনকে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব নেওয়া এই কমিশন শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। উল্টো অভিযোগ রয়েছে, তারা নিজেদের ঘনিষ্ঠ ও পরিচিত ব্যক্তিদের স্টক এক্সচেঞ্জে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই পর্ষদ পুনর্গঠন
মাকসুদ কমিশন ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)–এর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। অভিযোগ রয়েছে, এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে একটি বিতর্কিত পর্ষদ গঠন করা হয়।
একইভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)–তেও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়, যা বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষের জন্ম দেয়।
কমিশন বিদায় নিলেও বহাল প্রভাব
যদিও মাকসুদ কমিশন ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে, তবে তাদের নিয়োগ দেওয়া উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের স্বতন্ত্র পরিচালকেরা এখনো বহাল রয়েছেন। ডিএসই ও সিএসই—উভয় এক্সচেঞ্জেই ৭ জন করে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল এই কমিশন। শুধু তাই নয়, সেই স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্য থেকেই পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দুইজন।
বর্তমানে ডিএসইর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাকসুদ কমিশনের নিয়োগ দেওয়া মোমিনুল ইসলাম। অপরদিকে সিএসইর পর্ষদের নেতৃত্বে রয়েছেন একেএম হাবিবুর রহমান। যদিও বিধি অনুযায়ী স্বতন্ত্র পরিচালক থেকে পর্ষদের প্রধান হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হওয়ায় এই নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
অনিশ্চয়তা কাটেনি
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশন পরিবর্তন হলেও যদি তাদের রেখে যাওয়া কাঠামো ও প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকে, তাহলে শেয়ারবাজারে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। ফলে মাকসুদ কমিশনের বিদায়ের পরও স্টক এক্সচেঞ্জে তাদের নিয়োগ দেওয়া পর্ষদ বহাল থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হবে।
