মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে পুরোনো বিতর্কে বিএসইসি
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রে লভ্যাংশ বিতরণের বাধ্যবাধকতা শিথিল করে পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বে-মেয়াদি ফান্ডগুলো কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দিয়েও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। ফলে ফান্ডের মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলেও, একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত ঘিরে পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১০১৮তম জরুরি ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রে লভ্যাংশ বিতরণের বাধ্যবাধকতা শিথিল করে পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বে-মেয়াদি ফান্ডগুলো কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দিয়েও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। ফলে ফান্ডের মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলেও, একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত ঘিরে পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১০১৮তম জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএসইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি চাইলে সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারী ও শেয়ারবাজারের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় অর্থবছর শেষে অর্জিত মুনাফা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ না করলেও তা অনুমোদিত হবে। এর মাধ্যমে ফান্ডগুলোর মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলো।
বর্তমানে ফিক্সড ইনকাম স্কিমভুক্ত বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে মুনাফার কমপক্ষে ৭০ শতাংশ, গ্রোথ বা বর্ধিষ্ণু স্কিমের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য বে-মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ বিতরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালে বিতর্কের মুখে বিএসইসি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পুনঃবিনিয়োগ বা লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট (আরআইইউ) পদ্ধতি বাতিল করে। সে সময় বে-মেয়াদি ও মেয়াদি—উভয় ধরনের ফান্ডের ক্ষেত্রেই শুধু নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার বিধান করা হয় এবং ইউনিটহোল্ডারদের বোনাস লভ্যাংশ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে ফান্ডগুলোর পুনঃবিনিয়োগ সক্ষমতা কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে এক অ্যাসেট ম্যানেজার বলেন, একসময় মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো বোনাস ইউনিট প্রদানের মাধ্যমে পুনঃবিনিয়োগ করতে পারত। তবে সেটি নিয়ে সমালোচনার মুখে সেই পদ্ধতি বাতিল করা হয়। এখন আবার কোনো লভ্যাংশ না দিয়েই পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলো, যা আগের ব্যবস্থার চেয়েও বিনিয়োগকারীদের জন্য কম স্বচ্ছ বলে মনে হতে পারে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বে-মেয়াদি ফান্ডগুলো ইউনিটহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দিলেও পারবে। এটি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। কারণ নগদ লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। লভ্যাংশ না দিলে ফান্ডের সম্পদের পরিমাণ বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা ইউনিট রিডেম্পশনের মাধ্যমে তুলনামূলক বেশি অর্থ পেতে পারবেন, যেখানে আলাদা করে কর দিতে হবে না।
