সর্বোচ্চ বোনাস ব্র্যাক ব্যাংকের, পিছিয়ে মিডল্যান্ড
শেয়ারবাজারে আসছে তালিকাভুক্ত ১৩ ব্যাংকের ১৬৩ কোটি বোনাস শেয়ার। যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি ও ব্যাংকগুলোর বার্ষিক সাধারন সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনক্রমে তাদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে পাঠানো হবে। এতে ব্যাংকগুলোর ১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন বাড়বে। যে শেয়ারগুলোর বর্তমানে বাজার দর রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা।
দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ব্যবসায় শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া ১২টি ব্যাংকের পর্ষদ নগদের পাশাপাশি ...
শেয়ারবাজারে আসছে তালিকাভুক্ত ১৩ ব্যাংকের ১৬৩ কোটি বোনাস শেয়ার। যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি ও ব্যাংকগুলোর বার্ষিক সাধারন সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনক্রমে তাদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে পাঠানো হবে। এতে ব্যাংকগুলোর ১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন বাড়বে। যে শেয়ারগুলোর বর্তমানে বাজার দর রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা।
দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ব্যবসায় শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া ১২টি ব্যাংকের পর্ষদ নগদের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ ২০২৫ সালের ব্যবসায় ১৩টি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার শেয়ারবাজারে যোগ হতে যাচ্ছে।
তালিকাভুক্ত ১৩ ব্যাংকের পর্ষদ ২০২৫ সালের ব্যবসায় ১৬৩ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৪২৭টি বোনাস শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৪ হাজার ২৭০ টাকার পরিশোধিত মূলধন বাড়বে।
একইসময়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ১৫টির পর্ষদ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই ব্যাংকগুলোর পর্ষদ মোট ২ হাজার ৬০৫ কোটি ২১ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ বোনাস শেয়ারের চেয়ে ৯৭২ কোটি ১০ লাখ টাকার বা ৬০ শতাংশ বেশি নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে নগদ লভ্যাংশে কড়াকড়ি আরোপের আগে ২০১৮ সালের ব্যবসায় ব্যাংকগুলো ২২০ কোটি ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৫টি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল। ওই বছরের ব্যবসায় শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছিল ১৬টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আর ৮টি ব্যাংকের পর্ষদ নগদের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছিল। অর্থাৎ ২০১৮ সালের ব্যবসায় ২৪টি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার শেয়ারবাজারে যোগ হয়েছিল।
শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বোনাস শেয়ার দেওয়ার বিষয়টি একটু অন্য রকম। অনেক ব্যাংককে ব্যাসেল-২ এর শর্ত পরিপালনে বোনাস শেয়ার দিতে হচ্ছে। তারপরেও বোনাস শেয়ারের কারনে শেয়ারবাজার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছরই বোনাস শেয়ারের বড় চাপ বাজারে আসে।
তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই হাজার কোটি টাকার নিচে পরিশোধিত মূলধন থাকা ব্যাংকগুলোর নগদ লভ্যাংশে নিষেধাজ্ঞা ও আগামি অর্থবছরের বাজেটে বোনাস শেয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের উপর থেকে শাস্তির বিধান তুলে নেওয়ার কারনে আবারো বোনাস শেয়ারের আধিক্য দেখা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই দুই সিদ্ধান্তের ফলে শেয়ারবাজারের মাত্র দুটি ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে। আর বাজেটে নগদের চেয়ে বেশি বোনাস দিলেও ব্যাংকগুলোকে শাস্তির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। যাতে ব্যাংকগুলো যতো খুশি বোনাস শেয়ার দিতে পারবে।
এবার ব্যাংকগুলোর ঘোষিত বোনাস শেয়ারগুলোর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাজার দর রয়েছে ৫ হাজার ৩২৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এই শেয়ার শেয়ারহোল্ডারদের দেওয়া হলেও তা সমন্বয় হয়ে প্রাপ্তি প্রায় শূন্য হয়ে যায়। কারন বোনাস শেয়ার রেকর্ড ডেটের দরের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। এতে বোনাস শেয়ার পাওয়ার আগের এবং সমন্বয় পরবর্তী বোনাস শেয়ারসহ দর একই হয়ে যায়।
উদাহরন স্বরূপ : কোন একটি ব্যাংকের পর্ষদ ৫% বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। যার রেকর্ড ডেট ছিল ১৭ জুন এবং ওইদিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ছিল ১২ টাকা। কিন্তু রেকর্ড ডেট এর পরের দিন শেয়ারটি ৫% বোনাস শেয়ার সমন্বয় করে ১১.৪০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ রেকর্ড ডেটের দিন ১টি শেয়ারের যে দর ছিল, তা পরের দিন ৫% বোনাস শেয়ার সমন্বয় করে কমিয়ে আনা হয়েছে। অন্যভাবে বলা যায়, রেকর্ড ডেটের দিন ১টি শেয়ারের যে দর ছিল, পরের দিন বোনাস শেয়ারসহ ১.০৫টি শেয়ারের দর সমান হয়েছে।
এবার সবচেয়ে বেশি বোনাস শেয়ার দেবে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ হারে ২৯ কোটি ৮৬ লাখ বোনাস শেয়ার দেবে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ কোটি ৩ লাখ বোনাস শেয়ার দেবে পূবালি ব্যাংক। ২৪ কোটি ২৬ লাখ বোনাস শেয়ার দেবে উত্তরা ব্যাংক। আর উত্তরা ব্যাংক দেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ২৬ লাখ বোনাস শেয়ার।
এছাড়া সিটি ব্যাংক ২২ কোটি ৮২ লাখ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১২ কোটি ৯৮ লাখ, ব্যাংক এশিয়া ১০ কোটি ৯০ লাখ, সাউথইস্ট ব্যাংক ৯ কোটি ৩৬ লাখ, প্রাইম ব্যাংক ৬ কোটি ৯ লাখ, ট্রাস্ট ব্যাংক ৪ কোটি ৯৭ লাখ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ৪ কোটি ৮৩ লাখ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৪ কোটি ৭৯ লাখ, এনসিসি ব্যাংক ৪ কোটি ৪৪ লাখ ও মিডল্যান্ড ব্যাংক ১ কোটি ৯৮ লাখ বোনাস শেয়ার দেবে।
নিম্নে ব্যাংকগুলোর ২০২৫ সালের ব্যবসায় পরিচালনা পর্ষদের ঘোষিত বোনাস শেয়ারের তথ্য তুলে ধরা হল-
|
ব্যাংকের নাম |
বোনাস লভ্যাংশের হার |
বোনাস শেয়ারের সংখ্যা |
বাজারদর (কোটি টাকায়) |
|
ব্র্যাক ব্যাংক |
১৫% |
২৯৮৬৩৮৯২৫ |
১৯৬৮.০৩ |
|
পূবালি ব্যাংক |
২০% |
২৬০২৮৬৯৭৩ |
৯৬০.৪৬ |
|
উত্তরা ব্যাংক |
২৫% |
২৪২৫৬৭২১৮ |
৫২১.৫২ |
|
সিটি ব্যাংক |
১৫% |
২২৮১৮৩৩১০ |
৭০০.৫২ |
|
এমটিবি |
১২% |
১২৯৭৭১৮০৬ |
১৮০.৩৮ |
|
ব্যাংক এশিয়া |
৮.৫% |
১০৯০১২২৯১ |
২০১.৬৭ |
|
সাউথইস্ট ব্যাংক |
৭% |
৯৩৬১৭৭৪৭ |
৯৪.৫৫ |
|
প্রাইম ব্যাংক |
৫% |
৬০৯৩১০০৫ |
১৮৬.৪৫ |
|
ট্রাস্ট ব্যাংক |
৫% |
৪৯৭০৩৯৭৪ |
৭৭.৫৪ |
|
ডাচ-বাংলা ব্যাংক |
৫% |
৪৮৩৩৫০৫৭ |
২১৩.১৬ |
|
ইস্টার্ন ব্যাংক |
৩% |
৪৭৮৭৪৪০২ |
১১৯.৬৯ |
|
এনসিসি ব্যাংক |
৪% |
৪৪৪১৬৯২৪ |
৭১.৯৬ |
|
মিডল্যান্ড ব্যাংক |
৩% |
১৯৭৬৫৭৯৫ |
৩২.২২ |
|
মোট১৩টি |
১৬৩৩১০৫৪২৭টি |
৫৩২৮.১৫ |
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, পরিচালকদের বোনাস শেয়ার নিয়ে খামখেয়ালিমূলক সিদ্ধান্তের কারনেই বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে নগদ লভ্যাংশে কড়াকড়ি আরোপের কারনে বোনাস শেয়ার অনেক কমে এসেছে।
