শেয়ারবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ-এর বিরুদ্ধে মার্জিন বিধিমালা লঙ্ঘন, বিনা অনুমতিতে শেয়ার বিক্রি এবং বেআইনিভাবে ফোর্সড সেল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাবেক এফবিসিসিআই পরিচালক ও বিনিয়োগকারী মো. আসলাম সেরনিয়াবাত।

অভিযোগে তিনি বেআইনিভাবে বিক্রি করা শেয়ার ফেরত দেওয়া এবং ভবিষ্যতে ফোর্সড সেল কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রোববার বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ...

শেয়ারবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ-এর বিরুদ্ধে মার্জিন বিধিমালা লঙ্ঘন, বিনা অনুমতিতে শেয়ার বিক্রি এবং বেআইনিভাবে ফোর্সড সেল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাবেক এফবিসিসিআই পরিচালক ও বিনিয়োগকারী মো. আসলাম সেরনিয়াবাত।

অভিযোগে তিনি বেআইনিভাবে বিক্রি করা শেয়ার ফেরত দেওয়া এবং ভবিষ্যতে ফোর্সড সেল কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রোববার বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিনা অনুমতিতে প্রায় ৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির অভিযোগ

বিনিয়োগকারী আসলাম সেরনিয়াবাত জানান, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই গত ১১ ও ১৪ জুন তার মালিকানাধীন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস-এর ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭৮টি শেয়ার বিক্রি করে দেয়। ওই শেয়ারগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১৮ জুন বিএসইসির কাস্টমার কমপ্লেইন অ্যাড্রেস মডিউলে (সিসিএএম) একটি অভিযোগ (নম্বর–২০২৬০৬২৩৪১২) দাখিল করা হয়। একই অভিযোগ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-কেও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ জুন ব্রোকারেজ হাউজটির কাছেও লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনো কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

মার্জিন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

অভিযোগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে আসলাম সেরনিয়াবাত বলেন, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ তার ঋণ ও ইক্যুইটির অনুপাত ১:১-এ নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। সে সময় তার মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ২ লাখ ৯ হাজার ৮২০ টাকা।

এর আগে ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর তিনি ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ায় তার মোট ডিপোজিট দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ঋণ-ইক্যুইটির অনুপাত নেমে আসে ১:০.৯২-এ।

এরপর চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত তাকে আর কোনো মার্জিন কল নোটিস দেওয়া হয়নি। সে অবস্থায় পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রায় ৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৯(২) ও ৯(৪)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার হিসাবে কৃত্রিমভাবে বড় অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ৩০ জুন তাকে চূড়ান্ত মার্জিন কল দিয়ে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৪১৬ টাকা জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু ওই দিন সকালেই তার আরও ৬০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ সীমিত করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন আসলাম সেরনিয়াবাত।

বিএসইসি ও ব্রোকারেজ হাউজের বক্তব্য

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অভিযোগকারীর দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কোনো প্রতিষ্ঠান ফোর্সড সেল দিতে পারে না। বিএসইসির আইনি কাঠামোর মধ্যেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।’

আগেও তদন্ত ও জরিমানার নজির

উল্লেখ্য, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ওঠে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে শেয়ার হস্তান্তর, নেগেটিভ ইক্যুইটি, মার্জিন ঋণ, আর্থিক প্রতিবেদন ও করপোরেট সুশাসন সংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বিএসইসি পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ ছাড়া ২০২৪ সালে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ঘাটতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন।