প্রায় তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ, টানা লোকসান এবং দীর্ঘ সাত বছর ধরে কোনো লভ্যাংশ নেই। ভবিষ্যতে উৎপাদন পুনরায় শুরুরও কোনো ঘোষণা নেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরির শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক উত্থান দেখা দিয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সঙ্গে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বাজার ...

প্রায় তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ, টানা লোকসান এবং দীর্ঘ সাত বছর ধরে কোনো লভ্যাংশ নেই। ভবিষ্যতে উৎপাদন পুনরায় শুরুরও কোনো ঘোষণা নেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরির শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক উত্থান দেখা দিয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সঙ্গে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এরপরও চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ৩০ টাকা ১০ পয়সায় থাকা শেয়ারটির দাম মাত্র ছয় মাসে বেড়ে ১৪ জুলাই ৭৮ টাকা ৩০ পয়সায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৪৮ টাকা ২০ পয়সা বা প্রায় ১৬০ শতাংশ।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে ডিএসইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএসই ও সিএসইর তথ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণে গত ৯ ও ১৩ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এর আগে ৬ জুলাই ডিএসই মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কোম্পানিটি জানায়, শেয়ারের দাম বাড়ার মতো কোনো মূল্য সংবেদনশীল বা অপ্রকাশিত তথ্য তাদের কাছে নেই। ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিংবা আর্থিক অবস্থায়ও এমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, যা এই দরবৃদ্ধিকে সমর্থন করে।

কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ৩ টাকা ৮৯ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ৭৩ পয়সা। নিরীক্ষকও কোম্পানিটির ধারাবাহিক লোকসান ও উৎপাদন বন্ধ থাকায় ব্যবসা সচল রাখার সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই যখন একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তখন সেখানে সংঘবদ্ধ কারসাজির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সরকার বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা বললেও উসমানিয়া গ্লাসের ক্ষেত্রে এখনো বাস্তব অগ্রগতি নেই। তাই এই দরবৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়। কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ডিএসই ও বিএসইসির সার্ভিল্যান্স টিমের কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন।