প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে নীতি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আইপিও অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত বিধিনিষেধ এবং তালিকাভুক্তির সীমিত সুযোগসহ বিদ্যমান নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন স্টেকহোল্ডাররা।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে নীতি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আইপিও অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত বিধিনিষেধ এবং তালিকাভুক্তির সীমিত সুযোগসহ বিদ্যমান নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন স্টেকহোল্ডাররা।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশীজনরা বলেন, বর্তমানে একটি কোম্পানির আইপিও সম্পন্ন হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। অথচ বিধিমালায় আইপিও অনুমোদনের জন্য ৫০ কার্যদিবস নির্ধারণ করা রয়েছে। এই সময়সীমা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া ৫০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ইফতেখার আলম বলেন, আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনের নির্ধারিত সময়সীমা বাস্তবায়নও এর অন্যতম।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই আইপিও প্রক্রিয়াকে উদ্যোক্তাবান্ধব করতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

বৈঠকে বর্তমান বুক বিল্ডিংয়ের পরিবর্তে ডাচ অকশন পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা বিবেচনা, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, ফিক্সড প্রাইস আইপিওতে ১২৫ কোটি টাকার সীমা পুনর্বিবেচনা, আইপিওর অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সীমা শিথিল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যোগ্য বেসরকারি কোম্পানির জন্যও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এছাড়া ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়া সহজ ও সমন্বিত করার সুপারিশ করা হয়, যাতে একই তথ্য বারবার বিভিন্ন সংস্থায় জমা দিতে না হয় এবং নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তিও কমে।

সভায় পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলস-২০২৫ অনুযায়ী আইপিও আবেদন, আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা, রাইট ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা ও আইনগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান ছাড়াও কমিশনের সব কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইসিএবি, এফআরসি, ডিএসই, সিএসই, বিএপিএলসি, বিএমবিএ, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু ম্যানেজার এবং পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।