বাংলাদেশের পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। বিশেষ করে বন্দর ব্যবস্থাপনা, কোল্ড স্টোরেজ, লজিস্টিকস সাপ্লাই চেইন এবং আর্থিক সেবাসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ...

বাংলাদেশের পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। বিশেষ করে বন্দর ব্যবস্থাপনা, কোল্ড স্টোরেজ, লজিস্টিকস সাপ্লাই চেইন এবং আর্থিক সেবাসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিডা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ সময় বিডা, পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশের ব্যবসাবান্ধব নীতি ও বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব নিজেকে বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে দেশটির শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি আরবে বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদেরও স্বাগত জানানো হবে।

বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের সফল উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)-এর কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, টার্মিনালটির ৯৮ শতাংশের বেশি কর্মী বাংলাদেশি। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি আরও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে।

বৈঠক শেষে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, লজিস্টিকস, সাপ্লাই চেইন এবং বন্দর খাতে সৌদি আরবের আগ্রহ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি আর্থিক সেবা খাতেও সৌদি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

তিনি আরও জানান, সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সৌদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে বিডা। এর মাধ্যমে দুই দেশের বিনিয়োগ সহযোগিতাকে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই দেশের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।