অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক: অনলাইন জুয়া, অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রকিবুল হাসান খান রকি, যিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৯ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, বরখাস্তকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসনিক বিধি অনুসারে তিনি নির্ধারিত খোরপোশ ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক: অনলাইন জুয়া, অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রকিবুল হাসান খান রকি, যিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৯ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, বরখাস্তকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসনিক বিধি অনুসারে তিনি নির্ধারিত খোরপোশ ভাতা পাবেন। আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া এবং অন্যান্য গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে পুলিশ মামলা করেছে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়। সেই নিয়ম অনুসারেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায়। তবে আগাম তথ্য পেয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে, যার একটি বড় অংশ অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার কয়েকজন সহকর্মী জানিয়েছেন, অফিসে তিনি সাধারণত নীরব থাকতেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশা করতেন না। নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. রকিবুল হাসান খান রকির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।