১০০ ব্রোকারেজ হাউজে নজরদারি জোরদার করছে বিএসইসি
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে সুশাসন নিশ্চিত, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউজ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ১০টি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিদর্শন দলকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আরও প্রায় ৯০টি ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে সুশাসন নিশ্চিত, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউজ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ১০টি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিদর্শন দলকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আরও প্রায় ৯০টি ব্রোকারেজ হাউজ একই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অনিয়মের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতেই কমিশন তদারকি কার্যক্রম জোরদার করছে। কোনো অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করাই কমিশনের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপের পরিদর্শনের জন্য নির্বাচিত আটটি ব্রোকারেজ হাউজ হলো—শ্যামল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট, ভিশন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, হাওলাদার ইক্যুইটি সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, এরশাদ সিকিউরিটিজ, আর চৌধুরী সিকিউরিটিজ, এসএআর সিকিউরিটিজ এবং এমএএইচ সিকিউরিটিজ। এছাড়া লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজম সিকিউরিটিজ ও সিনথিয়া সিকিউরিটিজও পরিদর্শনের আওতায় থাকবে।
পরিদর্শনকালে ব্রোকারেজ ও ডিলার কার্যক্রম, সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিমালার পরিপালন, গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তা, কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) পরিচালনা এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, কমিশন ইতোমধ্যে অনুমোদিত ভেন্ডরের মাধ্যমে সব ব্রোকারেজ হাউজে অভিন্ন ও সম্পাদন-অযোগ্য (আনএডিটেবল) ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বিএসইসির মতে, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকির পাশাপাশি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন চালু হলে ব্রোকারেজ খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে অতীতের মতো গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের মতো অনিয়ম প্রতিরোধ করাও সহজ হবে।
সম্প্রতি এক বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানও বলেছেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর আরও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও ঘন ঘন অডিট এবং পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের অনিয়ম ঘটার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
