অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের তৈরি পোশাক খাত ক্রমেই তীব্র ঋণসংকটে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে একের পর এক নীতিগত সহায়তা দিলেও নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চ সুদহার, ডলার সংকট, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং খেলাপি ঋণের চাপ উদ্যোক্তাদের নতুন ঋণ গ্রহণে নিরুৎসাহিত করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ধ, রুগ্‌ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। পাশাপাশি ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের তৈরি পোশাক খাত ক্রমেই তীব্র ঋণসংকটে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে একের পর এক নীতিগত সহায়তা দিলেও নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চ সুদহার, ডলার সংকট, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং খেলাপি ঋণের চাপ উদ্যোক্তাদের নতুন ঋণ গ্রহণে নিরুৎসাহিত করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ধ, রুগ্‌ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। পাশাপাশি মাত্র ১ শতাংশ পরিশোধে দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ইডিএফ ঋণ পরিশোধে বাড়তি সময়, ইএসএফ সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের বিপরীতে টাকায় তারল্য নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি এখনো কঠিন। বাজারভিত্তিক সুদহার চালুর পর কার্যকর ঋণের ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের কার্যকর মূলধন সংগ্রহের খরচ অনেক বেশি হয়েছে। ডলার সংকটের কারণে কাঁচামাল আমদানির এলসি খুলতে বিলম্ব, অতিরিক্ত মার্জিন এবং ডলার সংগ্রহে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এতে উৎপাদন ও রপ্তানি সময়মতো সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বাড়ায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিতে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাচ্ছে না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বড় শিল্পগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি চাপে রয়েছেন বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমানে তিন মাস কিস্তি পরিশোধ না করলে ঋণ খেলাপি করা হয়, যা বাড়িয়ে ছয় মাস করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপির প্রভাব অন্য প্রতিষ্ঠানে পড়ার বিধান বাতিল এবং পুনঃতফসিল ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৪-৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বিশেষ নীতিগত সহায়তা ও সিআইবি শর্ত সহজ না করলে পোশাক খাতের চলমান ঋণসংকট কাটবে না।