অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক :   চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চাকরিচ্যুত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরাতন ভবনের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তারা চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং বিষয়টির তদন্তের দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ডিএসইতে দায়িত্ব পালন করলেও হঠাৎ করেই চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি এবং পুনর্বহালের আবেদন করলেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চাকরিচ্যুত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরাতন ভবনের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তারা চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং বিষয়টির তদন্তের দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ডিএসইতে দায়িত্ব পালন করলেও হঠাৎ করেই চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি এবং পুনর্বহালের আবেদন করলেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

চাকরিচ্যুত উপ-মহাব্যবস্থাপক হোসনে আরা পারভীন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত ছিলেন। চাকরিচ্যুতির বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টিকে ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এটি পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত বলে জানায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি ডিএসইর অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানানো হয়। এ অবস্থায় তারা কোথায় প্রতিকার চাইবেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ডিএসইর আরেক উপ-মহাব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা কারণ ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দাপ্তরিক নেটওয়ার্ক থেকেও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। চাকরি বহালের আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তা সম্ভব নয়। প্রায় ৩০ বছরের চাকরি জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি আগে হননি বলেও উল্লেখ করেন।

মানববন্ধনে উপ-মহাব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ বলেন, চাকরিচ্যুত সহকর্মীদের পুনর্বহালের দাবিতেই তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা, অর্থসচিব এবং বিএসইসির কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তার দাবি, এখন পর্যন্ত ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ১৪০ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। ধাপে ধাপে তাদেরও চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যমান কর্মকর্তাদের পরিবর্তে নতুন লোক নিয়োগের উদ্দেশ্যেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। প্রথমে বিষয়টিকে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এ বিষয়ে তাদের সন্দেহ আরও বেড়েছে বলে দাবি করেন তারা।