অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক :   সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির অবসান নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা ও বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিএসই জানিয়েছে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুল অনুসরণ করে আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত কর্মীদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধার পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থও দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির অবসান নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা ও বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিএসই জানিয়েছে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুল অনুসরণ করে আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত কর্মীদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধার পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থও দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কর্মী নিয়োগের মতো প্রয়োজনের ভিত্তিতে চাকরির অবসানও একটি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত ব্যবস্থাপনা-প্রক্রিয়া। ব্যবসায়িক বাস্তবতা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কৌশলগত প্রয়োজন বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডিএসই জানায়, ২০২২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ওই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কিছু পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং মোট ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে ১৭ জনের চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে, যা মোট জনবলের ৫ শতাংশেরও কম।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত বিবেচনা বা বৈষম্যের আশ্রয় নেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন, কার্যকারিতা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিএসইর ভাষ্য, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৬ ধারা অনুযায়ী নোটিশ অথবা নোটিশের পরিবর্তে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে কোনো কারণ প্রদর্শন ছাড়াই চাকরির অবসান ঘটানো যায়। একই আইনের আওতায় কর্মচারীরাও নির্ধারিত নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ দিয়ে চাকরি ছাড়তে পারেন। ফলে এ প্রক্রিয়াকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা অসদাচরণের অভিযোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আইন অনুযায়ী চার মাসের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিলেই বাধ্যবাধকতা পূরণ হয়। তবে মানবিক বিবেচনায় চাকরিচ্যুত কর্মীদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অব্যবহৃত ছুটির নগদায়নসহ সব ধরনের পাওনাও পরিশোধ করা হবে। এ অর্থ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ডিএসই আরও জানায়, পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখা হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতার সনদ (এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট) প্রদানসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, চাকরির অবসানের পর কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে অসম্পূর্ণ তথ্য বা প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে বক্তব্য দিচ্ছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানালেও কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করা সবার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করে ডিএসই।

সবশেষে ডিএসই জানায়, প্রতিষ্ঠানটি আইন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজ করে যাবে।