অর্থ-বাণিজ্য প্রতিবেদক : মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তালিকাভুক্ত এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বিষয়টি তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

সোমবার বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

বিএসইসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা উল্লেখযোগ্য ...

অর্থ-বাণিজ্য প্রতিবেদক : মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তালিকাভুক্ত এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বিষয়টি তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

সোমবার বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

বিএসইসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক ঘোষণা ছাড়াই ফান্ডটির ইউনিটের দামে অস্বাভাবিক উত্থান ঘটেছে। গত এক মাসে ইউনিটের মূল্য বেড়েছে প্রায় ১০৩ শতাংশ, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সন্দেহের কারণ হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, ফান্ডটির ইউনিটের মূল্য ও লেনদেনের অস্বাভাবিকতা কমিশনের নজরে এসেছে। বিষয়টি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা কারসাজির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৩ টাকা ৪০ পয়সা। যা ২ আগস্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৬ টাকা ৯০ পয়সায়। মাত্র এক মাসে ইউনিটপ্রতি দাম ৩ টাকা ৫০ পয়সা বা প্রায় ১০৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় এর পেছনে বাজার কারসাজি রয়েছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

বিএসইসির নির্দেশনায় তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে— বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত কারসাজিমূলক লেনদেন, অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না, স্টকব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন-সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না এবং সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে কমিশনের নির্দেশনা মেনে চলা হয়েছে কি না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের সচেতনতা বৃদ্ধিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধির ৬ ও ৮ নম্বর ধারা এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই ফান্ডটির ইউনিটের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত এই ফান্ডের পরিশোধিত মূলধন ১৪৩ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং মোট ইউনিট সংখ্যা ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪৩টি।