মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী যাওয়া ২৬% কমেছে
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উপসাগরীয় দেশগুলোর স্থানীয়করণ (লোকালাইজেশন) নীতি এবং দক্ষ জনবলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী পাঠানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বিদেশে কর্মী গেছেন ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫১ জন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ কম।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে বিদেশে গিয়েছিলেন ৫ লাখ ৯২ হাজার ...
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উপসাগরীয় দেশগুলোর স্থানীয়করণ (লোকালাইজেশন) নীতি এবং দক্ষ জনবলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী পাঠানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বিদেশে কর্মী গেছেন ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫১ জন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ কম।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে বিদেশে গিয়েছিলেন ৫ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ জন কর্মী। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার।
বিএমইটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবেও কর্মী পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ৪ লাখ ৪ হাজার ৬৭২ জন, যা মোট বিদেশগামী কর্মীর ৬৮ শতাংশ। চলতি বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪২ জনে, যা মোট কর্মীর প্রায় ৫৭ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে সবচেয়ে কম ৪৪ হাজার ৬৫৮ জন কর্মী বিদেশে যান। তবে জুলাই মাসে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় শ্রমবাজার; ওই মাসে বিদেশে গেছেন ৭১ হাজার ৮৪ জন কর্মী।
শ্রম অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয়করণ নীতির কঠোর প্রয়োগে অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে নির্মাণশ্রমিক ও ক্লিনার ক্যাটাগরিতে ভিসা ইস্যু ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে কাতার ও কুয়েতে বড় নির্মাণ প্রকল্প কমে যাওয়া এবং নতুন দক্ষতার শর্ত আরোপ করায় বাংলাদেশি অদক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, সরকার এখন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। বিদেশগামী কর্মীদের বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কাজের উপযোগী দক্ষতা এবং বিদেশ যাওয়ার আগেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে একটি যৌক্তিক ব্যয় কাঠামো নির্ধারণেও কাজ চলছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অঞ্চলটির প্রায় ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ চাকরি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে এবং প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে বিলুপ্ত বা প্রতিস্থাপনের ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে ভবিষ্যতে অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে দক্ষ ও প্রযুক্তি-সক্ষম কর্মীর চাহিদা আরও বাড়বে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রেজা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত শ্রমবাজারের বাস্তবতায় বাংলাদেশের অভিবাসন নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তার মতে, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু বেশি মানুষ বিদেশ পাঠানোর নীতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন কর্মী তৈরির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
