সালতা ক্যাপিটালের পর্ষদের ব্যাংক হিসাব জব্দের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : বিনিয়োগকারীদের শতকোটি টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ব্রোকারেজ হাউজ সালতা ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক (অর্থ) ও জেনারেল ম্যানেজারের ব্যাংক হিসাব জব্দের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে নতুন করে আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিএসইসির আবেদনের পর গত ৭ জুলাই অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব ৩০ ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : বিনিয়োগকারীদের শতকোটি টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ব্রোকারেজ হাউজ সালতা ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক (অর্থ) ও জেনারেল ম্যানেজারের ব্যাংক হিসাব জব্দের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে নতুন করে আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিএসইসির আবেদনের পর গত ৭ জুলাই অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব ৩০ দিনের জন্য অবরুদ্ধ করে বিএফআইইউ। পরে সংস্থাটি জানায়, মেয়াদ বাড়াতে হলে বিধি অনুযায়ী নতুন আবেদন করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলমান তদন্ত, আইনি কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় হিসাবগুলো আরও ৩০ দিনের জন্য অবরুদ্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে বিএফআইইউতে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সে কারণেই ব্যাংক হিসাব জব্দের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, তদন্তে সালতা ক্যাপিটালের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার নগদ ঘাটতি এবং ৭২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ ঘাটতি পাওয়া গেছে। এসব অর্থ ও সম্পদের সুরক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত চার কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবে সব ধরনের ডেবিট লেনদেন ও নগদ উত্তোলন আরও ৩০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএসইসির তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আকস্মিক পরিদর্শনে সালতা ক্যাপিটালের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে বড় ধরনের ঘাটতি ধরা পড়ে। বিষয়টি জানার পর ২৬ নভেম্বর তৎকালীন কমিশন তদন্ত কমিটি গঠন করে। চলতি বছরের ২১ মে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারীদের মোট ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ লোপাটের তথ্য উঠে আসে।
তদন্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহকের বিও হিসাবে থাকা ৪ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৩টি শেয়ার গোপনে বিক্রি করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পাশাপাশি গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাবে থাকা আরও ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অন্য হিসাবে সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণও পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
