ডন জামিন পেলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে, আদালতে সিআইডির আবেদন
বিনোদন প্রতিবেদক : চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি খলনায়ক আশরাফুল হক ডন জামিন পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি পুনরায় পলাতক হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ কারণে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে সংস্থাটি।
রোববার ডনকে আদালতে হাজির করা হলে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান তার জামিনের বিরোধিতা করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্ত এখনও চলমান। আসামি ...
বিনোদন প্রতিবেদক : চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি খলনায়ক আশরাফুল হক ডন জামিন পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি পুনরায় পলাতক হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ কারণে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে সংস্থাটি।
রোববার ডনকে আদালতে হাজির করা হলে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান তার জামিনের বিরোধিতা করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্ত এখনও চলমান। আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এবং বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জামিন দেওয়া হলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তিনি পুনরায় আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ওই দিনই সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ডনের পাশাপাশি সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লুসী, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ঘটনাটি হত্যা হিসেবে তদন্তের আবেদন করা হলে আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তবে নিহতের পরিবার ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন আবেদন করে।
পরবর্তীতে ২০০৩ সালে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালে দাখিল হওয়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এরপর নিহতের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর মা নীলা চৌধুরী মামলার বাদী হন এবং ২০১৫ সালে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন।
সবশেষে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। পরে ২০২২ সালের ১২ জুন ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়। পরবর্তী আদালতের নির্দেশে মামলাটি আবারও হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে।
