বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত দেশটি ইউএসএআইডি-এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে মোট ৪১৬ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ সহায়তা ছিল তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে চলতি বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ইউএসএআইডির বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশে সংস্থাটির ...

বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত দেশটি ইউএসএআইডি-এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে মোট ৪১৬ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ সহায়তা ছিল তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে চলতি বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ইউএসএআইডির বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশে সংস্থাটির অর্থায়নে পরিচালিত অনেক উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বড় অংশই এসেছে অনুদান হিসেবে। এর মধ্যে খাদ্যসহায়তা বাবদ দেওয়া হয়েছে ১৩১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, পণ্যসহায়তা ৪৬ কোটি ৯১ লাখ ডলার এবং বাকি অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে।

অন্যদিকে, ঋণ সহায়তা ছিল মাত্র ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা দেওয়া হয়েছিল ১৯৯৯-২০০০ সালের দিকে।

যেসব খাতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান মূলত সুশাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে।

ইআরডির হিসাবে, ১৯৭১-৭২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ইউএসএআইডি বাংলাদেশের জন্য মোট ৫৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মধ্যে খাদ্যসহায়তা ১৩১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, পণ্যসহায়তা ৪৪ কোটি ৫১ লাখ ডলার এবং অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়।

অনুদান বন্ধে বাড়ছে উদ্বেগ

ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আজম বলেন, ইউএসএআইডি সাধারণত সরকারকে সরাসরি অর্থ দিত না; বরং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করত।

তার ভাষ্য, অনুদান স্থগিত হওয়ায় স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিডিডিআরবি, রোহিঙ্গা সহায়তা কর্মসূচি, রেড ক্রসসহ ইউএসএআইডি-অর্থায়িত অনেক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর পড়তে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাংলাদেশে ইউএসএআইডির অর্থায়নে চলমান অনেক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বহু কর্মীর কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়ে।