বেসরকারি যমুনা ব্যাংক পিএলসি মূল ব্যাংকিং ব্যবসায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। ঋণ ও আমানতনির্ভর আয়ের জায়গায় বড় ধরনের পতন হলেও বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয়ের জোরে মুনাফা ধরে রেখেছে ব্যাংকটি—এমন চিত্র উঠে এসেছে ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণে। ব্যাংকটির এমনই মন্দা অবস্থা যে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনাদিবাবদ ব্যয়ের ৫ শতাংশও আয় হয় না মূল ব্যবসায়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে যমুনা ব্যাংকের নিট সুদ আয় ছিল ৩৩৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তবে ২০২৫ সালে তা কমে ...

বেসরকারি যমুনা ব্যাংক পিএলসি মূল ব্যাংকিং ব্যবসায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। ঋণ ও আমানতনির্ভর আয়ের জায়গায় বড় ধরনের পতন হলেও বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয়ের জোরে মুনাফা ধরে রেখেছে ব্যাংকটি—এমন চিত্র উঠে এসেছে ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণে। ব্যাংকটির এমনই মন্দা অবস্থা যে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনাদিবাবদ ব্যয়ের ৫ শতাংশও আয় হয় না মূল ব্যবসায়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে যমুনা ব্যাংকের নিট সুদ আয় ছিল ৩৩৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তবে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে নিট সুদ আয় কমেছে ৩০২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ৯০ শতাংশ, যা মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘাটতি সামাল দিতে ব্যাংকটি ঋণ কার্যক্রমের বদলে বিনিয়োগ আয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। সরকারি ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড, প্রাইজ বন্ড ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকটি। ২০২৪ সালে যেখানে মোট বিনিয়োগ ছিল ১২ হাজার ৭৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ১৯৮ কোটি ৬১ লাখ টাকায়। অর্থাৎ নতুন করে বিনিয়োগ করেছে ৭ হাজার ৪৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বা ৫৮ শতাংশ।

এর ফলে বিনিয়োগ আয়ও বেড়েছে। ২০২৪ সালে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকটির আয় ছিল ৯২৯ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮০ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। এক বছরে বিনিয়োগ আয় বেড়েছে ৩৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ৩৮ শতাংশ।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে ব্যাংকটি কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ থেকে আয় করেছে ৪৪৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য পরিচালন খাত থেকে আয় করেছে ১৪৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এসব আয়ের ওপর ভর করেই ব্যাংকটি মুনাফা দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

২০২৪ সালে যেখানে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ২৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ২৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা ১০০ শতাংশ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ ও অন্যান্য পরিচালন আয় বাদ দিলে ব্যাংকটি কার্যত লোকসানে পড়ত। কারণ ২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট সুদ আয় ছিল ৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, অথচ একই বছরে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে বেতনাদিবাবদই ব্যয় হয়েছে ৬১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ বিবেচনায় মূল ব্যবসার আয় দিয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনাদিবাবদ ব্যয়ের ৫ শতাংশ এসেছে।

অথচ ব্যাংকটির এর বাহিরেও অনেক ব্যয় রয়েছে। যাতে ২০২৫ সালে বেতনাদিসহ ব্যাংকটির মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৯৯৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি ব্যয় যোগ হয়েছে আরও ২১৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর যমুনা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৯৩৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং নিট সম্পদ ছিল ২ হাজার ৫৮৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার।

ব্যাংকটি থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮৮৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকটিতে গ্রাহকদের ৩৬ হাজার ৩২ কোটি ২১২ লাখ টাকার আমানত রয়েছে। এরমধ্যে ৬ হাজার ৩৬৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার কারেন্ট ডিপোজিট রয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার সেভিংস ডিপোজিট, ১৭ হাজার ৯০০ কোটি ১২ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ও ৪ হাজার ৬০ কোটি ১১ লাখ টাকার বিশেষ স্ক্রিমের ডিপোজিট রয়েছে।

এসব বিসয়ে জানতে ব্যাংকটির সচিব ও জনসংযোগ বিভাগে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।