ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ২২ সদস্যের একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত এই টাস্কফোর্স অপ্রয়োজনীয় নিয়ম, প্রশাসনিক জটিলতা ও সেবাপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবে। এ বিষয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

টাস্কফোর্সে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিবেশ, শিল্প, বাণিজ্য ...

ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ২২ সদস্যের একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত এই টাস্কফোর্স অপ্রয়োজনীয় নিয়ম, প্রশাসনিক জটিলতা ও সেবাপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবে। এ বিষয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

টাস্কফোর্সে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিবেশ, শিল্প, বাণিজ্য ও আইন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা এবং অর্থ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতিরাও সদস্য হিসেবে থাকবেন। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব টাস্কফোর্সের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টাস্কফোর্স ব্যবসায়িক সংস্কারের রোডম্যাপ অনুমোদন করবে এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি লাইসেন্স, অনুমোদন, ছাড়পত্র, কর, শুল্ক, ব্যাংকিং, শেয়ারবাজার ও পরিবেশ-সংক্রান্ত সেবায় অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

এছাড়া সিঙ্গেল উইন্ডো সেবা, স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ব্যবস্থা এবং অনলাইন ট্র্যাকিং চালুর বিষয়ে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধনের সুপারিশ করবে টাস্কফোর্স।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি’র মাধ্যমে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হবে। এই প্ল্যাটফর্মে অনিয়ম, হয়রানি বা অযৌক্তিক বিলম্ব-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, পর্যবেক্ষণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকবে। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরাসরি জাতীয় টাস্কফোর্সের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, টাস্কফোর্স প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার বৈঠক করে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। অর্থ বিভাগ এ কমিটির সচিবালয়-সংক্রান্ত সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।