অর্থ-বাণিজ্য প্রতিবেদক :   রেকর্ড উত্থানের পরও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে স্বল্পমেয়াদি বা ‘ফাস্ট মানি’র আধিপত্য বাড়লেও স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনের অভাব কসপি সূচককে চরম অস্থিরতার মুখে ফেলছে।

প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং দায়িত্ব নেওয়ার পর কসপি সূচককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বৈশ্বিক উত্থান এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের গতি তৈরি হয়। বিশেষ করে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে ...

অর্থ-বাণিজ্য প্রতিবেদক : রেকর্ড উত্থানের পরও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে স্বল্পমেয়াদি বা ‘ফাস্ট মানি’র আধিপত্য বাড়লেও স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনের অভাব কসপি সূচককে চরম অস্থিরতার মুখে ফেলছে।

প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং দায়িত্ব নেওয়ার পর কসপি সূচককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বৈশ্বিক উত্থান এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের গতি তৈরি হয়। বিশেষ করে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম বাড়ায় কসপি সূচক চলতি বছরের ২২ জুন রেকর্ড ৯,১১৪.৫৫ পয়েন্টে ওঠে।

তবে এই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অভাবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সূচক নেমে আসে ৬,২০০ পয়েন্টের ঘরে। এতে বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

কোরিয়া কর্পোরেট গভর্নেন্স ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগে মার্কিন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা ১০০ মিলিয়ন ওনের মূল্য ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪০ মিলিয়ন ওনে। একই সময়ে কোরিয়ার বাজারে সেই বিনিয়োগের মূল্য বেড়েছে মাত্র ১৬০ মিলিয়ন ওনে। এ ব্যবধানই দীর্ঘদিনের আলোচিত ‘কোরিয়া ডিসকাউন্ট’ সমস্যার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি মূলধন আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়নি। বরং এআই খাতে দ্রুত মুনাফার প্রত্যাশায় স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ বেড়েছে। পাশাপাশি স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো একক শেয়ারভিত্তিক লিভারেজড ইটিএফ চালুর উদ্যোগও ফটকাভিত্তিক লেনদেনকে উৎসাহিত করেছে বলে মত দিয়েছেন তারা।

অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা না বাড়লে কোরিয়ান শেয়ারবাজারে অস্থিরতা কমানো কঠিন হবে। তাদের মতে, টেকসই বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন আকর্ষণে কার্যকর নীতি গ্রহণ না করলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোরিয়ার ইক্যুইটি মার্কেটের প্রতিযোগিতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা—দুটিই চাপে পড়তে পারে।