বিনিয়োগে নতুন দুয়ার খুলল বিএসইসি
শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিনিয়োগ নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুমোদিত বিনিয়োগের ক্ষেত্র দুই থেকে বেড়ে চারটিতে উন্নীত হলেও শেয়ারবাজারে সরাসরি শেয়ার কেনাবেচার ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, দেশের শেয়ারবাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও ...
শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিনিয়োগ নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুমোদিত বিনিয়োগের ক্ষেত্র দুই থেকে বেড়ে চারটিতে উন্নীত হলেও শেয়ারবাজারে সরাসরি শেয়ার কেনাবেচার ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, দেশের শেয়ারবাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর হবে।
এ তালিকায় রয়েছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) এবং বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস (বিএএসএম)। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি বাজারের অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের জন্যও অভিন্ন বিনিয়োগ নীতি প্রযোজ্য হবে।
কমিশনের নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মচারী কর্তৃক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২১’ অনুমোদন না দিয়ে পৃথক প্রশাসনিক আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ওই বছরের ৩ মার্চ জারি করা অফিস আদেশে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নন-কনভার্টিবল বন্ড ও ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়।
সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই দুই বিনিয়োগ মাধ্যম বহাল রেখে নতুন করে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এবং রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (রিইট) যুক্ত করা হয়েছে। ফলে অনুমোদিত বিনিয়োগের ক্ষেত্র দুই থেকে বেড়ে চারটিতে উন্নীত হলো। এর মাধ্যমে কর্মীদের জন্য বৈচিত্র্যময় ও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা হলেও শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজে সরাসরি বিনিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। কারণ, বিএসইসি ও শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় বাজার, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, লেনদেন ও নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যের সংস্পর্শে আসেন। এ অবস্থায় স্বার্থের সংঘাত এবং অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি কমাতেই সরাসরি শেয়ার বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আদেশ জারি করবে কমিশনের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগ। অন্যদিকে স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, সিসিবিএল, বিআইসিএম ও বিএএসএমের কর্মীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের নির্দেশনা জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি কমিশনের আইন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, বিএসইসিসহ শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নতুন বিনিয়োগ খাত যুক্ত করা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এ সুবিধা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত বা সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি না হয়।
